অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইসরাইল: গাজায় সদ্য আবিস্কৃত সুড়ঙ্গের কারণে আক্রমণ বৃদ্ধি


গাজা ভূখন্ডের দক্ষিণাঞ্চলে রাফায় ইসরাইলি হামলার পর ধোঁয়ার কুন্ডলি। ৮ ডিসেম্বর ২০২৩।
গাজা ভূখন্ডের দক্ষিণাঞ্চলে রাফায় ইসরাইলি হামলার পর ধোঁয়ার কুন্ডলি। ৮ ডিসেম্বর ২০২৩।

শুক্রবার ইসরাইল বলেছে তারা গাজায় একটি নতুন সুড়ঙ্গ, অস্ত্র-শস্ত্র এবং হামাস স্থাপনার সন্ধান পেয়েছে। তারা বলছে যুক্তরাষ্ট্র অভিহিত এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাস বেসরকারি অবকাঠামোর অন্তরালে লুকিয়ে একটি সম্প্রসারিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটি গাজায় আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে নিকটবর্তী একটি স্কুল অবধি প্রসারিত। তবে সামরিক বাহিনী এর প্রমাণ হিসেবে কোন ভিডিও বা ছবি দেয়নি। অবশ্য তারা বিস্ফোরক এবং রকেটের ছবিসহ তারা অস্ত্রশস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে এবং অভিযোগ করছে যে এগুলি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে গাজার উত্তরাঞ্চলে একটি হাসপাতালের কাছে তারা হামাসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ক্যামেরা,ফোন, ওয়াকি-টকি এবং অস্ত্র-শস্ত্র পেয়েছে। আরও পেয়েছে অতিরিক্ত একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশ পথ।

ইসরাইল বলছে এ ধরণের সন্ধান প্রমাণ করে যে হামাস অসামরিক এলাকাতেই লুকিয়ে আছে। এই দাবির কারণেই তারা ঐ ছিঁটমহলে তাদের আক্রমণ জোরালো করার যুক্তি দিচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিরল এক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভূমধ্যসাগরের কাছে অবস্থিত সংকীর্ণ এই ভূখণ্ডে আসন্ন “মানবিক বিপর্যয়” সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে হামাসের হাতে জিম্মি প্রায় একশোজনকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে জঙ্গিরা এখনো প্রায় ১৪০ জনকে আটকে রেখেছে।

যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে এখন কোনো আলোচনা চলছে না। ।

গাজা ভূখণ্ডের উত্তরাংশে অবস্থিত গাজা শহরে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ইসরাইল হামাসকে নির্মূল করার জন্য সেখানে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে বিমান ও স্থল হামলা চালায়। সম্প্রতি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের গাজা প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার খান ইউনিসে যেখানে অবস্থান করছেন ইসরাইলের বাহিনী সে স্থানের কাছাকাছি রয়েছে। নেতানিয়াহু বলেন, “তাকে খুঁজে পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালায়। এতে ইসরাইলে প্রায় বারোশো মানুষ নিহত হয়; অসংখ্য মানুষকে হামাস জিম্মি করে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।

এরপরই ইসরাইল গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটাতে তাদের সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজায় সতেরো হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু।

XS
SM
MD
LG