অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কপ-২৮: ক্ষয়ক্ষতি তহবিল নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশসহ উপকূলীয় দেশগুলো


কপ-২৮ সম্মেলন
কপ-২৮ সম্মেলন

কপ-২৮ সম্মেলনে নবগঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল আশার আলো দেখাচ্ছে মতো উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই কার্যকর করা হয় তহবিল। এতে অর্থায়নের বিষয়ে আশানুরূপ অগ্রগতি দেখছে বাংলাদেশ।

গত এক সপ্তাহে এই তহবিলে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) ডলার জমা পড়েছে। তবে, চাহিদার তুলনায় এই অর্থ নগন্য। উন্নত দেশগুলো এই তহবিলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হওয়ায়, আশান্বিত হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো।

এই তহবিল থেকে অর্থ পেতে বাংলাদেশের আরো অন্তত আট মাস সময় লাগবে। কারণ, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এই তহবিল ব্যবহারের মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।

এজন্য, জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে।

এই সমীক্ষা শেষ হলে জানা যাবে; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, কোনে খাতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। এর পর বাংলাদেশ নবগঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য ও এলডিসি গ্রুপের লস অ্যান্ড ড্যামেজ সমন্বয়কারী এম হাফিজুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যক্রম শুরু হতে আরো ৮ মাস সময় দরকার হবে।

গত বছর মিশরের শার্ম আল শেখে ২৭-তম জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষয়ক্ষতি তহবিল গঠন করা হয়। এবারের ২৮-তম জলবায়ু সম্মেলনের প্রথম দিনে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তহবিলে অর্থায়নের ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বলেন, “প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি সর্বসম্মতিক্রমে এই তহবিল কার্যকরের প্রাস্তব অনুমোদন করেন। আর,অর্থায়নে এগিয়ে আসে অনেক দেশ।”

এ পর্যন্ত এই তহবিলে ৭০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। আরব আমিরাতের ১০ কোটি ডলার ছাড়া, জার্মানি ১০ কোটি ডলার, ইতালি ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ফ্রান্স ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এই তহবিলে কোনো অর্থ না দিলেও, দেশটি আবার জলবায়ু অর্থায়নে ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) প্যাসিফিক দেশগুলোর জন্য ১৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রয়োজন ১০ হাজার কোটি ডলার। সেই তুলনায়, এখন পর্যন্ত পাওয়া অর্থ, চাহিদার মাত্র দশমিক ২ শতাংশ।

মির্জা শওকত জানান, “ক্ষয়ক্ষতি তহবিল পরিচালনায় বিশ্বব্যাংককে একসেস দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা খুব সন্তুষ্ট না হলেও, সবাই সম্মত। বিশ্বব্যাংক আগামী ৪ বছর ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করবে।”

তহবিল পরিচালনায়, ২৫ সদস্যের একটি গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ হবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তহবিল নিয়ে আলোচনা করা।

তিনি জানান যে অভিযোজন তহবিল দ্বিগুণ করার বিষয়ে কপ-২৮ এ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করেছে। তবে, ন্যাশানাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের (ন্যাপ) ড্রাফট টেক্সট অ্যাডাপট করা যায়নি।

মির্জা শওকত বলেন, “একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এই টেক্সট-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করবো। বিস্তারিত আলোচনা হবে আগামী ২০২৪ সালের জুন মাসে জার্মানির বন সেশনে।”

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিনুল হক বলেন, “তহবিলে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে, তা অতি নগন্য। আর, এই অর্থ উন্নত দেশগুলো কবে দেবে, তার সময়সীমা সংক্রান্ত কোনো রূপরেখা নির্ধারণ করেনি।”

তিনি বলেন, “চলতি কপে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪০০০ কোটি ডলার দেয়ার কথা থাকলেও, ২১০০ ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অর্থ বরাদ্দ না বাড়লে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিপদ আরো বাড়বে।”

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের আর্থিক ও অ-আর্থিক ক্ষতির জন্য এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

XS
SM
MD
LG