অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পুলিশ রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিদের আটক করছে


ফাইল-ভারতরে কাশ্মিরে রোহিংগা শরনার্থী
ফাইল-ভারতরে কাশ্মিরে রোহিংগা শরনার্থী

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পুলিশ পঞ্চাশ জনের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গ্রেফতার বা আটক করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে বহু রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের এ-দেশী স্বামী-স্ত্রী। গত তিন দিন ধরে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হয়েছে উপত্যকায়।

স্থানীয় প্রশাসন এর আগে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ-সহ বিদেশী অভিবাসীদের সুবিধা করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আনন্দ জৈন বলেন, বিভিন্ন থানায় অবৈধ অভিবাসী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

নুসরত বেগম (নাম পরিবর্তিত) একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী। ভারতীয় কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার এক বাসিন্দাকে তিনি বিয়ে করেন। পুলিশ নুসরতকে আগে গ্রেফতার করেছিল, তবে এখন তিনি জামিনে মুক্ত। তিনি ভিওএ-কে বলেন, “আমার বাবা-মা, ভাইবোন ও আমি নারকীয় পরিস্থিতির মধ্যে বাস করেছি। নির্যাতন থেকে বাঁচতে আমরা কয়েক বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলাম।”

তিনি আরও জানান, “জম্মুর কাছে এক বস্তি এলাকায় আমরা যদিও দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছি, তবে যখন পুঞ্চের ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলাম তখন যেন আশার ডানায় ভর করেছিলাম।”

তবে তার স্বপ্ন আবার চুরমার হয়ে গেছে। নুসরত এখন চান যে, তার ঘটনাকে আইনের দৃষ্টিতে না দেখে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখুক কর্তৃপক্ষ।

২০২১ সালের মার্চে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার পুলিশি ধরপাকড়ের আগে জম্মু ও সাম্বা জেলার অসংখ্য শিবির ও বস্তিতে ১৩,৭০০ জন বিদেশী বাস করত যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলিম। বছরের পর বছর তারা দিনমজুর বা ছোটখাটো কাজ করে জীবনযাপন করেছে।

XS
SM
MD
LG