অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শেখ হাসিনা: ‘১৯৭৫ সালের পর সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে’


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রবিবার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, “জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে ১৯৭৫ সালের পর অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক বলে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নেতা-কর্মীরা গণভবনে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি এ কথা বলেন।

এই বিজয় তার টানা চতুর্থ মেয়াদে এবং সামগ্রিকভাবে পঞ্চম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি চমৎকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন “বিএনপি তাদের বিদেশি প্রভুদের পরামর্শ মেনে চলায় বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারে না।”

বিএনপি জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিলো উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা বাংলাদেশের জনগণকে চেনে না। ওস্তাদদের পরামর্শ মেনে চললে, বাংলাদেশে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।”

আওয়ামী লীগের কোনো বিদেশি প্রভু নেই বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, “কারণ জনগণ আ্ওয়ামী লীগের শক্তি।”

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করেছে বলে উল্লেখ করেন আ্ওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনের মধ্যে এই নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

“আমরা প্রমাণ করেছি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে;” যোগ করেন শেখ হাসিনা।

দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবকিছু ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের অনেকেই জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বকে কাজে লাগানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কিছু রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ জনগণের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর জনগণ দেড় মাসের মধ্যে বিএনপি সরকারকে উৎখাত করেছিলো।

“বাংলাদেশের মানুষ কখনো অন্যায় মেনে নেয় না;” বলেন শেখ হাসিনা।

ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়া

ব্রিটেন সোমবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের সময় সংঘটিত "ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার ঘটনার" নিন্দা জানিয়েছে এবং বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, "গণতান্ত্রিক নির্বাচন নির্ভর করে বিশ্বাসযোগ্য, অবাধ এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ওপর। মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপরিহার্য উপাদান। নির্বাচনের সময় এই মানদণ্ডগুলো ধারাবাহিকভাবে মেনে চলা হয়নি।"

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, "আমরা ভোটের আগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারে উদ্বিগ্ন।"

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে রোববারের সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার একদিন পর ব্রিটেন এই বিবৃতি দিলো।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের আহ্বান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার নবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সহিংসতা এবং বিরোধী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর দমনপীড়নের কারণে রবিবারের নির্বাচনের পরিবেশ বিপর্যস্ত হয় বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার (৮ জানুয়ারী) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান এই বক্তব্য দেন।

টুর্ক বলেন, “ভোটের আগে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার বিরোধীদলের সমর্থককে নির্বিচারে আটক করা হয়েছে অথবা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ঐ ধরণের কৌশল সত্যিকারের (গণতান্ত্রিক) প্রক্রিয়ার পক্ষে সহায়ক নয়।”

তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তার সকল বাংলাদেশী জনগণের মানবাধিকারের বিষয়টি পুরোপুরি বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্রের মত

অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের মতো যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, জানুয়ারির ৭ তারিখে হওয়া বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি, বলেছেন যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। সেইসাথে, সবগুলো দল এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র হতাশা প্রকাশ করেছে।

সোমবার, ৮ জানুয়ারি দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশের জনগণ ও তাদের গণতন্ত্রের আকাঙ্খা, সমাবেশ করার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানায়।" ৭ জানুয়ারি ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছে উল্লেখ করে মিলার বলেন, "এই নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেফতার করা ও নির্বাচনের দিন ঘটা অনিয়মের রিপোর্টগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ জারি থাকবে।"

নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের আগের কয়েকমাসে ঘটা সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ম্যাথিউ মিলার বিবৃতিতে বলেন, "সহিংসতার এ ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা ও এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি। সেই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা পরিহার করার জন্যও আমরা আহ্বান জানাই।"

মিলার আরও বলেন, "সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ভিশন বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো -প্যাসিফিক, বাংলাদেশের মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের প্রতি সমর্থন ও দু'দেশের নাগরিকদের সঙ্গে নাগরিকদের ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গভীর করা।"

৭ জানুয়ারির নির্বাচন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ২৯৮ টি আসনের মধ্যে এককভাবে ২২২ আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

একজন প্রার্থীর মৃত্যু এবং একজনের প্রার্থীতা বাতিলের কারণে ২ টি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৪১.৮ শতাংশ।

বিএনপিসহ ১৬ টি নিবন্ধিত দলবিহীন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় ২ জন গুলিবিদ্ধ ও ১ জন নিহত হয়েছে।

ভোট বর্জন করা বিএনপিসহ দলটির আন্দোলনে সঙ্গী ৩৬ টি দল ভোটের আগের দিন (৬ জানুয়ারি) ও ভোটের দিন (৭ জানুয়ারি) ৪৮ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করে।

XS
SM
MD
LG