অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ড. ইউনূসকে হয়রানি না করতে শেখ হাসিনার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১২ সেনেটরের চিঠি


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি বন্ধ করতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২জন সেনেটর।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের সেনেটর রিচার্ড জে. ডারবিন ও ইন্ডিয়ানার সেনেটর টড ইয়ংসহ ১২জন সেনেটের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২২শে জানুয়ারি।

স্বাক্ষরকারী সেনেটররা হলেন; রিচার্ড জে. ডারবিন , টড ইয়ং, টিম কাইন, ড্যান সুলিভান, জেফ মার্কলে, জিন শাহিন, এড মার্কি, শেরোড ব্রাউন, পিটার ওয়েলশ, শেলডন হোয়াইটহাউস, রন ওয়াইডেন এবং কোরি বুকার।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো সেনেটরদের চিঠিতে বলা হয়েছে যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হেনস্তা করা হচ্ছে। এছাড়া, আরো বিস্তৃতভাবে আইন এবং বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের সমালোচকদের টার্গেট করা হচ্ছে।

“তা বন্ধ করার আহ্বান জানাতে আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে এই চিঠি লেখা হচ্ছে;” চিঠিতে উল্লেখ করেন ১২ সেনেটর।

সেনেটররা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে ১৫০ টির বেশি ভিত্তিহীন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। বাংলাদেশে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে আইন ও বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তারা।

হাছান মাহমুদ

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) বলেছেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আদালত সাজা দিয়েছে; আর তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সংক্ষুব্ধ মানুষ। এখানে সরকার কোনো পক্ষ নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। হাছান মাহমুদ আরো বলেন, “সরকার আদালতকে নির্দেশ দিতে পারে না। ড. ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে বলতে চাই, সরকার তার মামলায় কোনো পক্ষ নয়। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের একজন নাগরিক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই বক্তব্য দিচ্ছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়।

এর আগে, একজন সাংবাদিক, ড. ইউনূসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের লেখা চিঠির বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “তারা যদি এমন কোনো চিঠি লিখে থাকেন, তবে তারা সরকারকে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করতে বলছেন। সরকার কি এটা করতে পারে? এটা কি যুক্তিসঙ্গত হবে?”

ইউএনবি এই চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা

গত ১ জানুয়ারি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দেয় ঢাকার একটি আদালত। আরেকটি ধারায়, তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলা দায়ের করেছিলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর, ড. ইউনুসের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে কারাগারে যেতে হয়নি ড. ইউনূসকে।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় আদালতে সাংবাদিকদের ড. ইউনূস বলেছিলেন, “যে অপরাধ করিনি, সেই অপরাধর জন্য শাস্তি পেলাম।”

এই মামলা ছাড়াও, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলাও রয়েছে। এই মামলাকে হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূসের পক্ষের আইনজীবীরা।

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খোলা চিঠি

মমলা দায়েরের পর, যুক্তরারষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং হিলারি ক্লিনটনসহ বিশ্বের ১৬০জন ব্যক্তি ও নেতা মি. ইউনূসের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলা চিঠি দেন। চিঠি প্রদানকারীদের একশ জনের বেশি নোবেল বিজয়ী।

এছাড়া ২০২৩ সালের মে মাসে বিশ্বের ৪০ জন রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একই ধরনের খোলা চিঠি লিখেছিলেন।

XS
SM
MD
LG