অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতীয় সংসদে বিএনপির কড়া সমালোচনা করলেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।

ইউএনবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কড়া সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন তিনি। এ সময় বিএনপির এমন সমালোচনা করেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত চলতি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০২৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রদর্শন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি দিনের পর দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসে এখনো অনেকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার হয়েছেন; এই অভিযোগের বিষয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, “কারা রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে পরিচিত হবে?” তিনি আরো বলেন, যারা আগুন জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে তারা কীভাবে রাজনৈতিক বন্দী হতে পারে। বরং তারা সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও অপরাধী।

“রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যারা গ্রেপ্তার রয়েছেন, তারা হয় হুকুমদাতা, সরাসরি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা অর্থদাতা। সুতরাং, অর্থদাতা, হুকুমদাতা বা যারা সরাসরি জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না;” শেখ হাসিনা আরো বলেন।

সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষী ও নথি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানান সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

গাজার হাসপাতালে ইসরাইলের হামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ইসরাইল সেখানে শিশু ও নারীদের হত্যা করছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে ইসরাইল যা করছে, বিএনপির চরিত্র এখানে তেমনই। বিএনপি বাংলাদেশের জন্য আজরাইল হয়ে গেছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

“দেশে-বিদেশে অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। আর, বিদেশিরা যা বলবে, তাতে দেশ চলবে না। আমরা সব দেশের নির্বাচন দেখেছি;” যোগ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন যে ৭ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে।

নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক নারী ও নতুন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, “অতীতে এ ধরনের সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি।”

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে, সাধারণ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

আসন্ন জাতীয় বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটবে বলে উল্লেখ করে তিনি। বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে; আমাদের পাঁচ বছরের মেয়াদে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি সমূহ বাস্তবায়ন করবো।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা সংসদে জানান যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

This item is part of
XS
SM
MD
LG