অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইয়েমেনে হুথিদের নতুন সলিড জ্বালানির ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার 


ইয়েমেনের বিদ্রোহী আনসার আল্লাহ গোষ্ঠীর মিডিয়া অফিসের দেয়া ভিডিও থেকে ৫ জুন নেয়া ছবিতে হুথিদের 'ফিলিস্তিন' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী আনসার আল্লাহ গোষ্ঠীর মিডিয়া অফিসের দেয়া ভিডিও থেকে ৫ জুন নেয়া ছবিতে হুথিদের 'ফিলিস্তিন' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে এক নতুন, সলিড জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ইরানের আগে প্রদর্শিত এক ক্ষেপণাস্ত্রের খানিকটা মিল রয়েছে। তেহরান দাবি করেছিল, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হাইপারসনিক গতিতে উড়তে সক্ষম।

সোমবার আকাবা উপসাগরের দক্ষিণে ইসরায়েলের আইলাত বন্দর লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা এই নতুন “ফিলিস্তিন” ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাথার অংশে ফিলিস্তিনি চেক-কাটা রুমাল কেফিয়ার মতো আঁকা হয়েছে।

হামলার সময় বিপদঘন্টি বা সাইরেন বাজানো হয়েছে, তবে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ আহত হয়নি বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকালে হুথিদের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, ফিলিস্তিন নামক ক্ষেপণাস্ত্রকে উত্থাপিত করা হচ্ছে এবং একে একটি মোবাইল লঞ্চার বলে মনে হয়েছে; এটি দ্রুত বাতাস ভেদ করে উপরে উঠে যাচ্ছে এবং এর ইঞ্জিন থেকে গলগল করে সাদা ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে।

সলিড জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে সাদা ধোঁয়া সাধারণ ব্যাপার।

তরল জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক দ্রুত স্থাপন ও নিক্ষেপ করা যেতে পারে সলিড জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র। হুথিদের জন্য এটা একটা প্রধান উদ্বেগের বিষয় কারণ, গত কয়েক মাসেযুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তি বারবার তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ-স্থলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেখান থেকে লোহিত সাগরে জাহাজের উপর বিদ্রোহীরা লাগাতার হামলা চালায়।

জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা

হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিন নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র “স্থানীয়ভাবে তৈরি।” তবে, ইয়েমেনে ঘরোয়াভাবে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ ও তার পরিচালন ব্যবস্থা সম্পর্কিত সক্ষমতা হুথিদের নেই বলেই জানা যায়।

তবে, জাতিসংঘের অস্ত্র বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হুথিরা বারবার ইরানের অস্ত্রে সজ্জিত হয়েছে। ইরান দাবি করছে, তারা হুথিদের অস্ত্র সরবরাহ করে না; অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রশক্তি যে সব জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে তাতে ইরানের অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি ও উপাদান পাওয়া গেছে।

মার্চ মাসে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এক অজ্ঞাত সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, হুথিদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ফ্যাবিয়ান হিঞ্জ লেখেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না ‘ফিলিস্তিন’ ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র, তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এটা ইরানের দেওয়া এক উন্নততর ও সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালিত সলিড জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র।”

হাইপারসনিক অস্ত্র ম্যাক ৫-এর চেয়ে অনেক বেশি গতিতে ওড়ে। গতি ও আকস্মিক বাঁকবদলের কারণে এই অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ফিলিস্তিন নামক ক্ষেপণাস্ত্র কতটা ভাল ও কোন গতিতে উড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

XS
SM
MD
LG