অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

১৭:৪৯ ২.৮.২০২৪

ডিবি আমাদের জোর করে আটকে রেখেছিল, আন্দোলন চলবে: মুক্তির পর কোটা আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক

ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির একদিন পর শুক্রবার সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, 'নিরাপত্তার' নামে তাদের সাতদিন ধরে 'বলপূর্বকভাবে' আটকে রাখা হয়েছিল।

এই যৌথ বিবৃতিতে সই করেন মো. নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বকর মজুমদার। সরকারের অপপ্রচার ও জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে দেশের শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে নিহত ছাত্র-নাগরিকের বিচার ও আটক নিরীহ মানুষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

বিবৃতিতে বলেন, “মূলত আন্দোলন ও নেতৃত্বকে ছত্রভঙ্গ করতেই ১৯ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের গুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ‘নিরাপত্তার’ নামে ছয় সমন্বয়ককে সাতদিন ধরে ডিবি হেফাজতে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিবি প্রধান নিরাপত্তার কথা বললেও আমাদেরকে আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্যই ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছিল।”

ছয় সমন্বয়ক আরও বলেন, "আমরা গুম, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম; আমরা আমাদের মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূতভাবে আমাদেরকে ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা হয়। প্রথমে নিরাপত্তার কথা বললেও পরে আদালতের কথা বলা হয়। আদালতের আদেশ ছাড়া নাকি আমাদের ছাড়া যাবে না।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে প্রচারিত ছয় সমন্বয়কের ভিডিও স্টেটমেন্টটি আমরা স্বেচ্ছায় দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সিদ্ধান্ত ডিবি অফিস থেকে আসতে পারে না। সারাদেশের সকল সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে না।’

সমন্বয়কেরা আরও জানান, "ডিবি অফিসে আমাদের জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও করা হয়। ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারকে ডেকে ১৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং মিডিয়ায় মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ানো হয়। আমাদের শিক্ষকরা দেখা করতে আসলে, দেখা করতে দেওয়া হয়নি।"

সারাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই রাত থেকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের ডিবি অফিসে আটক অবস্থায় অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে সে খবর জানামাত্র সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুলাহ ও নুসরাত তাবাসসুমও অনশন শুরু করেন।

গত সাত দিন ধরে তাদের ও তাদের পরিবারকে হয়রানির নিন্দা জানিয়ে সমন্বয়কারীরা বলেন, "অনশনের কথা পরিবার ও মিডিয়া থেকে গোপন করা হয়। প্রায় ৩২ ঘণ্টারও অধিক সময় অনশনের পর ডিবিপ্রধান ছয় সমন্বয়ককে মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে অনশন ভাঙা হয়। গত সাতদিন ডিবি অফিসে আমাদের ও আমাদের পরিবারের সঙ্গে নানা হয়রানি, নির্যাতন ও নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

তিনি বলেন, "সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাত্র-নাগরিকের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সরকার এখনও শিক্ষার্থীদের ওপর দমননীতি অব্যাহত রেখেছে এবং সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করছে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করছে।"

এর আগে গত ২৬ জুলাই ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বক্কর মজুমদারকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। নাহিদ ও আসিফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরদিন সমন্বয়ক সারজিস ও হাসনাত আবদুল্লাহকে সায়েন্সল্যাব থেকে জোরপূর্বক ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

এরপর গত ২৮ জুলাই ভোরে নুসরাত তাবাসসুমকে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)

০৩:২৭ ২.৮.২০২৪

ঢাকায় দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীদের প্রতিবাদ সমাবেশ

গণমাধ্যম সহ দৃশ্যমাধ্যমের নানা শাখার কর্মীরা ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পী সমাজ’ ব্যানারে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে হত্যা- সহিংসতা- গণগ্রেপ্তার- হয়রানির প্রতিবাদে এবং সকল হত্যার হিসাব ও বিচার করা, গুলি ও সহিংসতা বন্ধ, গণ-গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ, আটক শিক্ষার্থী মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ঢাকার ফার্মগেটে সমাবেশ করে।

০৩:২৪ ২.৮.২০২৪

কর্তৃপক্ষ তাদের কথা রাখেনি, আন্দোলন চলবে: সমন্বয়ক সারজিস আলম

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী সারজিস আলম এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার বা মামলা দিয়ে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সারজিস আলম বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "তারা তাদের কথা রাখেনি। তাই এসব গণগ্রেপ্তার, নিপীড়ন, নির্যাতন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।"

তিনি আরও লেখেন, ছয়জনকে ডিবি হেফাজতে ৬ দিন আটকে রাখা যায়, কিন্তু বাংলাদেশের পুরো তরুণ প্রজন্মকে কীভাবে আটক করা যায়? দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার যা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, সেগুলো কীভাবে বন্ধ করা যায়?

পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, "যতদিন বাংলাদেশ আন্দোলনকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে না, গণগ্রেপ্তার, নিপীড়ন, নির্যাতনের অবসান হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।"

(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)

০২:৩৩ ২.৮.২০২৪

চাঁদপুরে 'রিমেমবারিং আওয়ার হিরোজ' কর্মসূচিতে হামলায় আহত ১০

চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে পূর্ব নির্ধারিত 'রিমেম্বিং আওয়ার হিরোজ' কর্মসূচি পালন করার সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তবে পুলিশের সহায়তায় ব্যস্ততম সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

তারা বলছেন, হঠাৎ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুব সংগঠন ছাত্র ও যুবলীগের সদস্যরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে অন্তত ১০ জন আহত হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ইউএনবি বলেন, শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে। কিন্তু তাদের রাস্তা থেকে দূরে অবস্থান করে কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হামলার বিষয়টি তার জানা নেই।

(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)

আরও লোড করুন

XS
SM
MD
LG