শেখ হাসিনার পতন পরবর্তীকালেও বাংলাদেশের প্রতি 'পূর্ণ অঙ্গীকার' জানিয়েছে আইএমএফ
আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বলেছে, আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন পরবর্তীকালে তারা "বাংলাদেশ এবং সে দেশের মানুষের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ" রয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিমারের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের জিডিপি-র প্রায় এক চতুর্থাংশ নির্ভর করে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি-র মত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ওপর, দেশটির অর্থনীতির জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফ বলেছে, তারা বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে এবং সে দেশের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীরভাবে শোকাহত। ২০২৩ সালে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়।
এক ইমেইল বিবৃতিতে আইএমএফের এক মুখপাত্র বলেন, "আমরা বাংলাদেশ এবং সে দেশের মানুষের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছি যাতে তাদের অর্থনৈতিক স্থিতি এবং প্রবৃদ্ধি নিশ্চিৎ করা যায়"।
সোমবার বিশ্বব্যাংক বলেছে তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং তাদের দেয়া ঋণের ওপর সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখছে। জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশটির জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণ অঙ্গীকারের পরিমাণ ২.৮৫ বিলিয়ন ডলার।
(এই রিপোর্টের তথ্য রয়টার থেকে নেয়া হয়েছে।)
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবরে উদ্বেগ বাড়ছে
বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার একদিন পর মঙ্গলবার মানবাধিকার প্রবক্তা এবং কূটনীতিকরা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টিয়ান ঐক্য পরিষদ বলেছে, ২০০ থেকে ৩০০ মূলত হিন্দুদের বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা সোমবার থেকে ভাংচুর করা হয়েছে। একই সময়ে, ১৫-২০টি হিন্দু মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এফপি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হাসপাতাল কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাগেরহাট জেলায় একজন হিন্দুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মঙ্গলবার বলেন, “সংখ্যালঘুদের বিষয় দিল্লি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা “গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন থাকবেন।”
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ‘শান্তির’ আহ্বান জানায়।
“বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন,” দূতাবাস এক বার্তা জানায়, যেটার প্রতিধ্বনি করেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কূটনীতিকরা।
বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে বলেন, ইইউ মিশনের প্রধানরা “বাংলাদেশে ধর্মীয়, জাতিগত এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর এবং তাদের প্রার্থনার জায়গায় একাধিক হামলার খবরে খুবই উদ্বিগ্ন।”
সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের ১১ দফা দাবি
সরকারি চাকরি দিয়ে পুনর্বাসনসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহতদের পরিবার।
প্রস্তাবিত ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবার বিষয়ক কমিটি’র আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত শিক্ষার্থী, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, পুরুষ ও নারীর পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফুড কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে মাসিক দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান, চাকরিপ্রার্থীদের তিন হাজার টাকা বেকার ভাতা প্রদান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আহতদের চিকিৎসার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসন করা।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরাসরি সরকারি বৃত্তি প্রদান, শেখ হাসিনা পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন এবং পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তার নামে এবং বিভিন্ন আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের নামে নামকরণ।
চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে নিরপেক্ষ সাবেক সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটকে সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিগত দিনে আন্দোলনে ব্যবহৃত সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া, বিগত সরকারের আমলে জুলুম-নির্যাতনের কারণে পদোন্নতি/বাধ্যতামূলক অবসরের কারণে সুবিধাবঞ্চিত সকল শ্রেণীর সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃনিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- বড় বড় ঋণখেলাপি ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত আদায় এবং সামরিক আদালতে ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত বিচার এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয়, আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্য থেকে কমপক্ষে একজনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা।
কমিটি এই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। পাশাপাশি সেনাপ্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্তরের সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের অভিনন্দন জানিয়েছে।
(এই রিপোর্টের তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)