অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানঃ চীনা কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ইসলামাবাদ ও বেইজিং-এর মধ্যে সন্ত্রাসদমনে সহযোগিতার অঙ্গীকার

পাকিস্তানের করাচিতে গুলিচালনাস্থলে একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। ফাইল ফটোঃ ২৮ জুলাই, ২০২১।
পাকিস্তানের করাচিতে গুলিচালনাস্থলে একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। ফাইল ফটোঃ ২৮ জুলাই, ২০২১।

পাকিস্তানে অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক বহু প্রকল্পে কর্মরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি; পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বেইজিং সফরকালে বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও চেয়েছেন চীনের কাছে।

জারদারি পাঁচ দিনের (৪-৮ ফেব্রুয়ারি) চীন সফরে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার ও অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানি নেতারা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও প্রতিনিধি স্তরে বৈঠক করেছেন জারদারি।

বৃহস্পতিবার জারি করা এক যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানি নেতৃত্ব “পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে, পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা কর্মকর্তা, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা পাকিস্তানি সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব কেননা চীন সব সময়ের কৌশলগত সহযোগী ও বিনিয়োগকারী দেশ।”

হাজার হাজার চীনের নাগরিক রয়েছেন পাকিস্তানে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অধীনে একাধিক প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে তারা কর্মরত। তবে, ২০১৭ সাল থেকে পরিকল্পিত হামলায় কমপক্ষে ২১ জন চীনা নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর শহর করাচিতে হামলা চালিয়ে চীনের দুই নাগরিককে হত্যা করা হয়। ওই বছরের মার্চ মাসে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এক যানবহরের উপর হামলা চালিয়ে চীনের পাঁচজন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল; এই ঘটনার পর কয়েক মাস পরে করাচির ঘটনা ঘটে।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বর্ধিত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালানোর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে পাকিস্তান।

সর্বশেষ উচ্চস্তরীয় বৈঠকে চীনের কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

পাকিস্তানি পক্ষের জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বোঝানো হয়েছে, আলোচনার মূল বিষয় নিরাপত্তা।

শি-র সঙ্গে বুধবার বৈঠকের শুরুতে উদ্বোধনী ভাষণে জারদারি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব “ওঠা-পড়ার মধ্য দিয়ে গেছে” তবে, জঙ্গি হামলা চালিয়ে চীনের নাগরিকদের হত্যা করে এই সম্পর্ক ভাঙা যাবে না।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “যত সন্ত্রাস ঘটানো হোক, বিশ্বে যত সমস্যা উঠে আসুক না কেন, চীনের জনগণের পাশে আমি দাঁড়াব, পাকিস্তানের জনগণ দাঁড়াবেন।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG