অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দ: আফ্রিকার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির মাঝে রুবিও জি-২০ বৈঠকে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফটোঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফটোঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।

জি-২০ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এই সপ্তাহের পরের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না।

এই মাসের শুরুর দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ঘোষণা দেন যে, তিনি বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার জোহানসবার্গে হতে যাওয়া বৈঠকে যোগ দেবেন না। তিনি বৈঠকের অ্যাজেন্ডাকে “আমেরিকা-বিরোধী” বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন দক্ষিণ আফ্রিকা “জি-২০ ব্যবহার করে ‘সংহতি, সমতা এবং স্থায়িত্ব’ প্রচার করছে। তার অর্থঃ ডিইআই এবং জলবায়ু পরিবর্তন। আমার দায়িত্ব হচ্ছে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া। করদাতাদের টাকা অপচয় বা আমেরিকা-বিরোধিতার আদর করা আমার কাজ নয়।”

ডিইআই-এর অর্থ হলো, ডাইভার্সিটি, একুইটি এবং ইনক্লুশন (বা বৈচিত্র্য, ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তি), এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম সপ্তাহে এক নির্বাহী আদেশ দিয়ে ফেডেরাল সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিইআই নীতি বিলুপ্ত করেন।

“আমার মনে হয়, জি-২০ সমাবেশের পুরো আলোচ্য বিষয়টি এমন, যার উপর আমাদের মনোযোগ দেয়া ঠিক হবে না। তারা সেখানে বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তি, ন্যায্যতা এবং সেরকম ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আলাপ করবে,” রুবিও পরে গণমাধ্যমকে বলেন।

তিনি আরও বলেন যে, জি-২০’র উচিত “সন্ত্রাসবাদ এবং জ্বালানী নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি প্রকৃত হুমকি” নিয়ে বেশি মনযোগী হওয়া।”

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা। ফটোঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা। ফটোঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।

বিশ্বের ১৯টি উন্নত অর্থনীতি এবং ইইউ আর আফ্রিকান ইউনিয়ন জি-২০তে অন্তর্ভুক্ত। এই বছর প্রথমবার একটি আফ্রিকান দেশ জি-২০’র সভাপতিত্ব পেয়েছে। রুবিও না গেলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগ রুবিওকে লক্ষ্য করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেঃ “আমাদের জি-২০ প্রেসিডেন্সি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং গ্লোবাল সাউথের সকল দেশকে সমান মর্যাদা দিয়ে সমতার ভিত্তিতে সবার জন্য আন্তর্জাতিক সিস্টেম নিশ্চিত করা।”

ট্রাম্পের অভিযোগ

রুবিও'র ঘোষণার আগে থেকেই ওয়াশিংটনে নতুন প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার জমি দখল করছে এবং দেশের সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানের সম্প্রদায়ের সাথে খারাপ আচরণ করছে। তিনি সে দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার যদিও বছরের আগের দিকে একটি বিতর্কিত ভূমি সংস্কার আইন পাস করেছে, কোন জমি এখনো দখল করা হয়নি। দেশের সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী এখনো অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এবং প্রাইভেট কৃষিজমির বেশিরভাগ মালিকানা তাদের হাতে।

অন্যান্য জি-২০ দেশের প্রতিক্রিয়া

রুবিও যোগ দেবেন না ঘোষণা করার পর কয়েকটি দেশ দ্রুত তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।

তাদের মধ্যে রয়েছে ইইউ সদস্য জার্মানি, ইটালি এবং ফ্রান্স। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোষ্টে বলেন, তারা “ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ”, এবং তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

রাশিয়াও নিশ্চিত করেছে যে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকে যোগ দেবেন।

“দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্সি যেসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত করা, অসমতা কমিয়ে আনা, এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা,” রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাহারোভা বলেন।

চীনও বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় চীনের রাষ্ট্রদূত উ পেং রুবিওর ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলার সাথে দেখা করে এক্স-এ এক পোষ্টে বলেন, “আমিও দক্ষিণ আফ্রিকার জি-২০ প্রেসিডেন্সির প্রতি চীনের সমর্থন ঘোষণা করছি।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG