অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বৈঠক হতে যাচ্ছে

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার। লন্ডন। ফটোঃ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার। লন্ডন। ফটোঃ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।

ইউক্রেনে চলমান সংঘাত ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন; ইউরোপের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতার শুল্ক হুমকি এবং ইউরোপ যেন নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের উপর কম আস্থা রাখে, ট্রাম্পের এমন দাবির আবহে বৈঠক হতে চলেছে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প (তিনি চান, নেটো সদস্যরা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে তাদের মোট দেশীয় উৎপাদনের ৫ শতাংশ করুক) নিজের অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে, ইউরোপের এই খাতে খরচ বাড়ানো উচিত। তিনি বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদদাতাদের বলেন, এই কাজের জন্য ইউরোপীয়দের চেয়ে বেশি কর আমেরিকান করদাতাদের দেয়া উচিত হচ্ছে না।

ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে মঙ্গলবার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতে নজিরবিহীন ব্যয়-বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন; ২০২৭ সালের মধ্যে সে দেশের জিডিপির ২.৫ শতাংশ এবং পরের বছর ২.৬ শতাংশ এই খাতে খরচ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্টারমার।

স্টারমার ব্রিটিশ সংসদের সদস্যদের বলেছেন, “এই সপ্তাহে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যখন সাক্ষাৎ করব তখন আমি স্পষ্ট করে দেব যে, আমি চাই, এই সম্পর্ক আরও মজবুত হোক।” পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেশের “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক জোট” হিসেবে অভিহিত করেছেন একে।

স্টারমার মঙ্গলবার সংবাদদাতাদের বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর প্রতিরক্ষা খাতে এই ব্যয়-বৃদ্ধি “তিন বছর ধরে ভাবনায়” ছিল। ব্রিটেনের ইতোমধ্যেই নিঃশেষিত বিদেশী সহায়তা সংক্রান্ত বরাদ্দ কাটছাঁট করে বর্ধিত অর্থ জোগান দেওয়া হবে; উল্লেখ্য, সে দেশের জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বিদেশী সহায়তা বাজেটকে।

তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়-বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত “ত্বরান্বিত” হয়েছে কেননা ইউক্রেন বা ইউরোপীয়দের বাদ দিয়েই ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে সমঝোতার পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের হার তিনি হ্রাস করছেন।

স্টারমার বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, আমাদের আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং আমি তার সঙ্গে সহমত। এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমার ভাবনার মিল রয়েছে।” তিনি বলেছেন, আগামী সংসদে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় আরও বৃদ্ধি করে ৩ শতাংশে নিয়ে যাওয়া তার লক্ষ্য।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের ভূ-কৌশলী দলের গবেষক জেসিন ওয়েবার বলেন, স্টারমারের কাছে একটি প্রধান বার্তা হল, ইউক্রেন নিয়ে যে কোনও আলোচনার অংশ হতে হবে ইউরোপীয়দের।

This item is part of
XS
SM
MD
LG