অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জেলেন্সকিঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত ও খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সম্ভব

লন্ডনের উপকণ্ঠে সংবাদমাধমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। ফটোঃ ২ মার্চ, ২০২৫।
লন্ডনের উপকণ্ঠে সংবাদমাধমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। ফটোঃ ২ মার্চ, ২০২৫।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি রবিবার বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর করতে এখনও প্রস্তুত এবং তিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে তিনি সক্ষম।

ব্রিটেনে ইউরোপীয় নেতাদের সমাবেশের পর সংবাদদাতাদের জেলেন্সকি বলেন, তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রও খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত, তবে “কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করতে সময় লাগতে” পারে।

গত সপ্তাহে জেলেন্সকির হোয়াইট হাউস সফরের সময় দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক চলাকালে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর সমস্ত আয়োজন ভেস্তে যায়।

জেলেন্সকি রবিবার বলেন, রাশিয়ার তিন বছরব্যাপী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের উপর অনেকখানি নির্ভর করে।

জেলেন্সকি বলেছেন, “আমার মনে হয়, এই ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া (রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির) পুতিনকেই সাহায্য করবে এবং এই কারণেই আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র, সভ্য জগতের প্রতিনিধি ও বিশ্বের নেতারা অবশ্যই পুতিনকে সাহায্য করবেন না।”

শুক্রবারের বৈঠকে ট্রাম্প জেলেন্সকিকে অকৃতজ্ঞ বলে তীব্র ভর্তসনা করেন এবং তিনি খনিজ চুক্তির দাবি করেন; রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার দিয়ে সাহায্য করেছে এবং এই চুক্তি সেই অনুদান পরিশোধের একটা উপায়।

ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচার করেছেন এবং পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে ফোনালাপ করেছেন। পাশাপাশি, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা সৌদি আরবে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তবে এই বৈঠক হয় ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বাদ রেখে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে রবিবার পোস্ট করেছেন, “পুতিনকে নিয়ে উদ্বেগ কমিয়ে আমাদের বরং অভিবাসী ধর্ষক দল, মাদক মাফিয়া, খুনি, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে আমাদের দেশে আসা মানুষদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, যাতে আমাদের অবস্থা ইউরোপের মতো না হয়।”

লন্ডনে রবিবার বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার ১৮টি মিত্র দেশকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ইউক্রেনের উপর থেকে সাহায্যের হাত সরিয়ে নিচ্ছে, সেহেতু ইউরোপ এখন “ইতিহাসের এক সন্ধিলগ্নে” দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপরই ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছেন।

স্টারমার বলেন, “এটা আরও বৈঠকের সময় নয়, বরং এটা পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। ন্যায্য ও টেকসই শান্তির লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা ঘিরে অগ্রসর হওয়া, নেতৃত্ব দেওয়া ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এটা।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG