অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে  কাজ করতে আগ্রহী


কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের সামনে টহল দিচ্ছে তালিবান যোদ্ধারা। আগস্ট ১৬ ২০২১- এপি

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের বিষয়টি সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ভয়েস অব আমেরিকাকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের বিষয়টি সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ভয়েস অব আমেরিকাকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশ সব সময় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে। জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করাই আমাদের নীতি।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যারা কাজ করছিল দীর্ঘসময় ধরে আমরা তাদের থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছি। গত দুদিন সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কঠোরভাবে নজর রাখছি। তালিবানদের বাস্তবিক কোন পরিবর্তন আছে কিনা তাও দেখার চেষ্টা করছি। জনসাধারণের কোনো দুর্ভোগ হবে না বলে আশা করছি। তবে আমাদের পুরোপুুরি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি আঞ্চলিক বা তার বাইরে প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে আফগান জনগণের জন্য কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধিতে একত্রে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে নীতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আফগানিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ মনে করে, দেশটির জনগণের পছন্দ অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক ও বহুমুখী দেশ হলে তা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে। বাংলাদেশ নিজেকে আফগানিস্তানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধু বলে মনে করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা, পয়নিষ্কাশন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রস্তুুত আছে। বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলো এসব কাজ গত ২০ বছর ধরে দেশটিতে করে আসছে।

বাংলাদেশ মনে করে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং কোন দিকে যাবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে দেশের জনগণের ওপর। আফগানিস্তানকে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ আর দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের জন্য অবদান সৃষ্টিকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দেখতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে আফগান জনগণের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের সব পক্ষকে শান্তিরক্ষা এবং সব বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার বলেন, আফগানিস্তানে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাচ্ছি। এ অঞ্চলের জন্য অশনি সংকেত। তিনি বলেন, আমি আফগান পরিস্থিতি অনেক দিন থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছি। চুক্তির পরই বলেছিলাম একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি ধেয়ে আসছে উপমহাদেশের জন্য। এখন তাই হতে চলছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পরামর্শ রাখেন, যারা আফগানিস্তান, পাকিস্তানে গত কয়েক বছর বেশি সফর করেছেন, এখনো সেখানে অবস্থান করছেন তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আর এখানে এখন যারা অতি উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ করছে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সবাই সরাসরি ঢাকা থেকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান যাননি। অনেকে মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ঘুরে গেছেন। সব কিছু নজরে রাখতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থানে থাকতে হবে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতি নিয়ে। ২০১৪ সালে ঢাকায় একজন পাকিস্তানি কূটনীতিক, যার নাম মাজাহার তাকে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুটনৈতিক কারণে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার সঙ্গে আটক এই দেশীয় সঙ্গী ইউনুস দুই বছরে ৪৮ বার পাকিস্তানে আসা-যাওয়া করল তা কারও খেয়ালই ছিল না। অতীত ভুলে গেলে হবে না। ’৯৬ সালে আফগান পরিস্থিতির প্রভাবে এই দেশে হরকাতুল জিহাদ, বাংলা ভাইদের উত্থান হয়েছিল। সিরিজ বোমা হামলা তারা করেছিল। এ কারণে অতীতকে সামনে রেখেই আমাদের বর্তমান নিয়ে সামনে যেতে হবে।

এদিকে আফগানিস্তানে তালিবান নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বাংলাদেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অতীতে আফগান নিয়ে অতি উৎসাহীদের দিকে দৃষ্টি রাখছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানে অতীতে যারা যুদ্ধ করতে গিয়েছিল তাদের সর্বশেষ অবস্থানের ফাইল ও ডকুমেন্ট খতিয়ে দেখছে। বিমানবন্দরে কুটনৈতিক ও এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাড়া অন্য সাধারণ যারা আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে এসেছেন তাদের দিকেও দৃষ্টি রাখা হবে।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার মিডিয়ার কাছে দুদিন আগে স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিদের আফগানে গিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণের চেষ্টার কথা। তিনি বলেছেন, অনলাইনে জঙ্গিরা কর্মী সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তালিবানদের পক্ষে যুদ্ধে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ ইতিমধ্যে তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ধারণা করছি কিছু মানুষ ভারতে ধরা পড়েছে। আরও কিছু মানুষ হেঁটে বিভিন্নভাবে আফগানিস্তানে পৌঁছার চেষ্টা করছে। তিনি সরকারের সতর্ক ও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। এব্যাপারে মেজর জেনারেল (অব.) সিকদার বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ ব্যাপারে শূন্য টলারেন্সে থাকতে হবে অতীতে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে।

XS
SM
MD
LG