অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে আনুষ্ঠানিক শ্রমিক ছাঁটাই জুন মাসেই শুরু


করোনার বৈশ্বিক মহামারীর নেতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ খাত গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে আনুষ্ঠানিক শ্রমিক ছাঁটাই চলতি জুন মাসেই শুরু হবে বলে জানিয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া কোন পথ খোলা নেই বলে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে। তিনি বলেছেন, চাহিদা না থাকায় ৫৫ ভাগ সক্ষমতায় কারখানাগুলো বর্তমানে চলছে।
কত শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে তা তিনি বলেননি। তবে এই সংখ্যা কয়েক লাখ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ৩৬ লাখ শ্রমিক গার্মেন্টসে কর্মরত রয়েছেন।



বিভিন্ন সক্রিয়বাদী সংগঠন এবং গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, করোনা সংক্রমণের মহামারীর কারণে ইতোমধ্যে ৫ লক্ষাধিক শ্রমিককে অনানুষ্ঠানিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। দেশের সাড়ে ৩ হাজারের মতো গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে ১ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানায় কোন কাজ না থাকায় সেগুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক পাওনা বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন না। বিজিএমইএ থেকে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার বাতিল করা হয়েছিল। বিভিন্ন দেশে লকডাউন খুলে দেয়ার পরে বাতিল করা অর্ডারের কিছু অংশ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নিতে রাজি হয়। তবে একটি গবেষণা সংস্থা সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে বলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ৪০ শতাংশ এখনও বাতিল করা অর্ডার সচল করতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, কাগজে-কলমে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পাশে নেই ওই ক্রেতারা। চাহিদা না থাকায় ৫৫ ভাগ সক্ষমতায় কারখানাগুলো চলছে। তিনি বলেন, গার্মেন্টস রপ্তানিও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গত চার দশকের মধ্যে এতোটা সংকট গামেন্টস খাত আর কখনোই দেখেনি বলে জানালেন বিজিএমইএ সভাপতি।

ঢাকা থেকে আমীর খসরুর প্রতিবেদন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:35 0:00


XS
SM
MD
LG