অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনে ব্যাপক আয়োজন বাংলাদেশে 

বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপনের তিন দিন আগে ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে এক পতাকা সমাবেশে বিশাল আকৃতির পতাকার নিচে একটি কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। ডিসেম্বর ১৩, ২০২১।
বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপনের তিন দিন আগে ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে এক পতাকা সমাবেশে বিশাল আকৃতির পতাকার নিচে একটি কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। ডিসেম্বর ১৩, ২০২১।

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশ বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচী।

দীর্ঘ নয় মাস বিভীষিকাময় সময়ের পরিসমাপ্তির দিনটিকে ১৮ কোটি মানুষ পালন করে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিবস হিসেবে।

এবারের বিজয় দিবস বাংলাদেশে উদযাপন করা হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে । সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে বুধবার থেকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এর আয়োজক। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল সাড়ে ৪টায় এবং শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় থাকবে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।

আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সম্মানিত অতিথিকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মহান বিজয় দিবস উদযাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা।

বাংলাদেশে এ দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। কয়েকদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করবে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাস বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ লড়াই করে বিজয়ের গৌরব অর্জন করে। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আজ সেই ঐতিহাসিক দিন। সেই দিন বাংলাদেশের মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে।

এ দিকে পাকিস্তানের বিশিষ্ট কুটনীতিক হোসেন হাক্কানী সম্প্রতি বলেছেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের উচিত হবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়া। তিনি আরও বলেন , “পাকিস্তানের জনগণের উচিত্ হবে তাদের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সকল উৎপীড়ন- নির্যাতনের জন্য সে দেশের সরকার বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।"

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের একজন সেনা কমান্ডার সাবেক জেনারেল তালাত মাসুদ ভয়েস অফ আমেরিকার উর্দু বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ১৯৭১ সালে “গুরুতর ভুল” করেছিল।

This item is part of
XS
SM
MD
LG