অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে শিল্প কারখানা চালু হওয়ায় সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ফিরছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। আগস্ট ১- রয়টার্স।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন গার্মেন্টস খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থকে শ্রমিকরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে তাড়াহুড়ো করে আসার ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়েছে। এর ফলে দেশে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী লক ডাউন চলাকালে হঠাৎ করে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব রপ্তানি মুখি শিল্পকারখানা খুলে দেয়ায় ফের করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।

রোববার ঢাকায় এ বছরের প্রথম বর্ষের এমবিবিএস ক্লাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন গার্মেন্টস খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থকে শ্রমিকরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে তাড়াহুড়ো করে আসার ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়েছে। এর ফলে দেশে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. জাহিদ মালেক বলেছেন করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালগুলোতে যতটুকু শয্যা বাড়ানো সম্ভব তা করা হয়েছে। এখন আর একটাও বেড বাড়ানোর জায়গা নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ভবন খোঁজা হচ্ছে কিন্তু পাওয়া যাচ্ছেনা। লক ডাউন বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন বিধি-নিষেধ তো থাকতে হবে কারণ দেশ এখনও করোনা মুক্ত হয় নাই এবং বিধি-নিষেধ মেনেই কাজ করতে হবে।

এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটি মানুষকে করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন আগামী ৭ই আগস্ট থকে সপ্তাহব্যাপী গ্রামাঞ্চলে টিকা ক্যাম্প করা হবে যখন টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে না। তিনি বলেন ভোটার আইডিকার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই হবে এবং যাদের কার্ড নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে, আজ থেকে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সকল রপ্তানি মুখি শিল্পকারখানায় কাজ শুরু হয়েছে। তবে লম্বা লক ডাউন ও ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া অনেক শ্রমিক এখনও কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল কম। অনেক শ্রমিক অবশ্য আজও বিভিন্ন ভাবে কর্মস্থলে পৌঁছেছেন। শিল্প মালিকরা আশা করছেন আগামীকাল থেকে পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করা যাবে।

অপরদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফে রোববার জানানো হয়েছে আগামীকাল সোমবার থকে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগের সব জেলায় এবং আগামী সপ্তাহে দেশের সর্বত্র অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমানদের টিকা দেওয়া শুরু হবে। ভারত সরকার এপ্রিল মাসে টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বাংলাদেশের প্রায় ১৪ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেন নাই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশে গত ২৪ ঘণ্টার করোনা পরিস্থিতির যে তথ্য আজ জানিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশে পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুও। এই সময়ে সারা দেশে ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১৪, ৮৪৪ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩১ জনের।

XS
SM
MD
LG