বেমানান ও বোধহীন ব্যবহারের অভিযোগ এনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক বর্জন করেছেন। চলতি নির্বাচনে এটাই প্রথম কোন বৈঠক বর্জনের ঘটনা ঘটলো। মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে চলা প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকটির সমাপ্তি ঘটে কোন সিদ্ধান্ত বা আশ্বাস ছাড়াই। বৈঠকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ড. কামাল হোসেন। বৈঠক বর্জন শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যবহার একেবারেই ভদ্রতাজনিত ছিল না। বৈঠকে বলা হয়, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ বিরোধীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। তারা যেন লাঠিয়াল বাহিনীর মতো আচরণ করছে। সিইসি এসব অভিযোগকে খুবই হালকাভাবে নেন বলে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানালেন ড. কামাল ও সিইসির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। কামাল হোসেন বার কয়েক বলেন, আমরা যেসব অভিযোগ করেছি তা একেবারেই কানে তুলছেন না। মনে হচ্ছে বিরোধীরা সবই মিথ্যে অভিযোগ করছেন। সিইসি এ সময় পুলিশকে সমর্থন করেন। বলেন, পুলিশ কোথায় খারাপ ব্যবহার করেছে। বার কয়েক বলেন, আমাদের দেখান। কামাল হোসেন তখন বলেন, আপনি বিচারক হিসেবে এভাবে ঢালাওভাবে বলতে পারেন না। আপনি অভিযুক্তের পক্ষ নিচ্ছেন। তখন সিইসি বলেন, আপনি নিজেকে কি মনে করেন? কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সভা কক্ষ ত্যাগ করেন। সেনাবাহিনী নামার পর পরিস্থিতির কোন উন্নতি হচ্ছে না এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাতো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সেনাবাহিনী তাদের নির্দেশ মতো কাজ করে।
ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী