অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফ্রান্সে অবৈধ হবার আশংকায় বহু বাংলাদেশি, আবেদন করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট মিলছে না


বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে বিদেশ থেকে ফেরা কয়েকজন বাংলাদেশি - ফাইল ফটো- রয়টার্স

ফ্রান্সে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পাসপোর্ট জটিলতায় অবৈধ হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। আবেদন করার পরও যথাসময়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট সরবরাহ করতে না পারায় প্রবাসীরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষায় আছেন অনেক প্রবাসী। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট সরবরাহের কথা বললেও নির্ধারিত সময়ে অনেকেই তা পাচ্ছেন না। এতে অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন। যাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে তারা অবৈধ হয়ে পড়ার শঙ্কায় আছেন। পাসপোর্ট না থাকায় অনেকে দেশটিতে বৈধ বা স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে পারছেন না।

ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এস এম মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, দূতাবাস কোনো পাসপোর্ট ইস্যু করে না। প্রবাসীদের পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করে তা পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ঢাকার পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে পাসপোর্ট ইস্যু হলে দূতাবাস যত দ্রুত সম্ভব তা হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, অনেকে আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে থাকেন। এসব কারণে কারও কারও আবেদন সিস্টেমে আটকে যায়। ভেরিফিকেশনেও অনেকের আবেদন ঝুলে যায়। এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা চাই প্রত্যেক প্রবাসীই যাতে পাসপোর্ট পায়। ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তা কিছু যৌক্তিক আবার কিছু অযৌক্তিক। এগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু জানান, ফ্রান্সে অনেক নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে। বাংলাদেশে অপরাধ করেও কেউ কেউ সেখানে চলে গেছে। সেখানে গিয়ে তাদের কেউ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তাদের তো আমরা পাসপোর্ট দিতে পারি না।

তিনি জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক অনেকের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তাদের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই পাসপোর্ট দেয়া হবে। গত ২৪শে অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ (ভিএফজিবি)’ এর এক সভায় ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সমস্যার বিষয়টি উঠে আসে।

সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে ফ্রান্সে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন প্রবাসী পাসপোর্ট জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, খুব শিগগিরই তাদের ফ্রান্সে থাকার বৈধতা শেষ হয়ে যাবে। প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা বা সরবরাহে বিলম্ব করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা দীর্ঘ তিন থেকে পাঁচ বছর ফ্রান্সে আছেন এবং দেশটির আইন অনুযায়ী তিন বছরের আওতায় ২৪টি পে-স্লিপ সংগ্রহ করলে তারা বৈধ হতে পারেন। কিন্তু তাদের কাছে পাসপোর্ট না থাকায় তাদের এই বৈধ হওয়ার স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবাসীরা উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী তাদের রেসিডেনশিয়াল পারমিট নবায়ন করতে পারছেন না। পাসপোর্ট না থাকায় তাদের সেই রেসিডেনশিয়াল পারমিট ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে।

স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ফ্রান্সে অনেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকও আসেন। এমন নাগরিকদের ফ্রান্স সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের বয়স আঠারো হওয়ার পর ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ মেলে। তখন তাদের বৈধ পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হয়। এমন অনেক বাংলাদেশি নাগরিকও সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্রান্সে বসবাস করেন বাংলাদেশি সাংবাদিক আবদুল মোমিত রোমেল। তিনি ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি ভয়েস অফ আমেরিকার এই প্রতিনিধিকে বলেন, ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসেন তারা এসেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। যারা আশ্রয়ের অনুমতি পান তাদের পাসপোর্টের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায় তারা কাজের সূত্রে বসবাসের সুযোগ পান। এমন বাংলাদেশিরাই বেশি বিপাকে পড়েছেন।

রোমেল জানান, ২০১৪ সালে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন এমন প্রবাসীও আছেন যাদের হাতে এখনো পাসপোর্ট আসেনি। পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, আবেদন করার পর দূতাবাস থেকে বলা হয়, দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই পাসপোর্ট মিলবে। কিন্তু আবেদনকারীদের এই সময়ের মধ্যে অনেকে পাসপোর্ট পাচ্ছেন না।

সিলেট থেকে প্যারিসে যাওয়া তোফায়েল আহমেদ গত ২৫শে মে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসে। কিন্তু এ পর্যন্ত তিনি পাসপোর্ট পাননি। সুনামগঞ্জের শামীম আহমেদ ২রা জুন আবেদন করেছিলেন। তিনিও পাসপোর্ট হাতে পাননি এখন পর্যন্ত।

ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ- এর সভাপতি ড. হাসানাত হোসেন এমবিই জানিয়েছেন, ফ্রান্সে বসবাসকারী প্রবাসীদের পাসপোর্ট জটিলতার বিষয়টি বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

XS
SM
MD
LG