অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৭০ শতাংশ কিশোরী-নারী সাইবার অপরাধের শিকার


বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাওয়ার স্কুলের হাজার হাজার মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ছাত্রীকে। যা ইন্টারনেটে হয়রানি বা ব্লাক মেইলের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে রক্ষা করতে ছাত্রীদের সাহায্য করবে বলে মনে করেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভয়েস অফ আমেরিকার Maaz Hussain এর প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশী-আমেরিকান আইটি বিশেষজ্ঞ ইফতেখার ইভানের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন শাগুফতা নাসরিন কুইন ও তাওহীদুল ইসলাম।

please wait

No media source currently available

0:00 0:19:20 0:00

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সম্প্রতি একটি পাইলট প্রকল্প শেষ করেছে। যেটিতে শহর এলাকায়, অনলাইনে হুমকির মুখোমুখি হলে বা সাইবার হয়রানি থেকে কিভাবে নিজেদের সুরক্ষা করা যায় তা ছাত্রীদের শেখানো হয় আইসিটির প্রতিমন্ত্রী Zunaid Ahmed Palak ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, ৪০টি স্কুল কলেজের ১০ হাজার ছাত্রী ওই প্রকল্পে অংশ নেয়।

কর্মশালায় অংশ নেয়া ১৫ বছর বয়সী সাহনা মনে করেন, তিনি ঐ প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হয়েছেন।

বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে ধরে প্রতিবছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী ও কিশোরী। যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিশুক চাকমা বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারী মেয়েদের পুরুষ সঙ্গী প্রায় তাদের ঘনিষ্ট ছবি বা ভিডিও মাধ্যমে তাদের প্রতারিত করে। তিনি বলেন,

"যখন তাদের সম্পর্ক থাকে না, তখন তাদের সাবেক প্রেমিকরা সামাজিক মাধ্যমে ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে মেয়েদের মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করে। এই ধরনের ছবি এবং ভিডিও প্রায়ই নতুন সম্পর্কের মধ্যে বা বিবাহিত হওয়ার পর মেয়েদের জীবনে অশান্তি তৈরী করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মেয়েরা আত্মহত্যা করার মতো চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।“

আইসিটি বিভাগের কনট্রোলার অফ সার্টিফাইড অথরিটিস (সি.সি.এ.) এর অফিস, দশ হাজার মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সাইবার সিকিউরিটি কনসালটিং সংস্থা Four D Communications কে নিয়োগ করেছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, অনলাইনে নিজেদের রক্ষার পদ্ধতি শেখার পাশাপাশি, কিভাবে সাইবার অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করতে হয় তাও মেয়েরা শিখছে।

কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট তুরিন আফরোজ বলেন, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবেলা করার জন্য সরকারকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ বা আইসিটি আইন সংশোধন করা উচিত।

বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা অভিযানের প্রধান আবুল মনসুর মো: শরফ উদ্দিন জানান, সারা দেশে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সরকার আগ্রহী। এবং এর জন্য তার বিভাগ প্রচারণার সম্প্রসারণের জন্য পরিকল্পনা করছে।

এ বিষয়ে আমরা কথা বলি নিউইয়র্ক বার্কলে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের গ্লোবাল হেড অব টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার, সাবেক মাইক্রোসফট কর্মকর্তা ইফতেখার ইভানের সঙ্গে। তিনি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরামর্শও দেন।

XS
SM
MD
LG