অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন অপরিহার্য- প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন। (ছবি- অ্যাডোবে স্টক)

সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা বাস্তবতার নিরীখে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বুধবার বিচারিক কর্মজীবনের শেষ দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এমন মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ওই সময়ে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় বুধবার বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং শত শত আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রধান বিচারপতির জীবনী পাঠ করে সংবর্ধনা দেন। এরপর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা সংবর্ধনা দেন।

সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ; আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব এবং স্বাতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বিধৃত রয়েছে। ‘তিনটি অঙ্গের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই গণতন্ত্রকে বিকশিত করে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ‌‌‘ইট ইজ বিউটি অব আওয়ার কনস্টিটিউশন’ একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস হলো জনগণের আস্থা। এটা হলো বিচারকদের সততা, সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার প্রতি গণমানুষের অবিচল বিশ্বাস। সাধারণ মানুষের এই আস্থা অর্জনের জন্য বিচারকদের একদিকে যেমন উঁচু নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, তেমনি অন্যদিকে সদা বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল আইন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এটা অর্জন সম্ভব কেবলমাত্র নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়মতো এবং আইনানুগভাবে বিচারিক কাজ সম্পন্নকরণের মাধ্যমে।’

আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন পেশার সুমহান মর্যাদা রক্ষা করতে সব অনিয়মের বিরুদ্ধে বার ও বেঞ্চকে সোচ্চার থাকতে হবে। আইনজীবী ও বিচারকরা হচ্ছে একটি পাখির দুটি পাখার মতো। বাম হাত ও ডান হাতের মতো। তাদের পরস্পরের প্রতি আস্থার সম্পর্ক বিচার ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়বে।

বিচারকের সংখ্যা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, মামলার সংখ্যা বিবেচনায় আমাদের বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। মামলার জট নিরসনে দেশের অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। জেনে খুশি হয়েছি যে, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।

‘সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা বাস্তবতার নিরীখে অপরিহার্য। এতে বিচারপতি নিয়োগের কাজটি আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে এবং জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন ধারণা দূরীভূত হবে। ’

ভার্চ্যুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ফিজিক্যাল কোর্টের মতো তেমন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এবং ভার্চ্যুয়াল কোর্টে বিচারকাজ পরিচালনা করলে বিচার নিষ্পত্তি আরও দ্রুত হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

মামলার জট নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, মামলার জট হ্রাস ও মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে বিচারকদের আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিচারপ্রার্থীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধসহ বিচারকার্য পরিচালনার নিমিত্ত সব স্তরের বিচারকদের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর। ওই দিন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। সংবিধান অনুসারে বিচারপতি পদের মেয়াদ ৬৭ বছর পর্যন্ত।

XS
SM
MD
LG