অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তে জড়ো হয়েছে


মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত পুলিশ গত দুই দিন যাবত রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য সীমান্তে জড়ো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১১ মাসে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত পুলিশ দ্বিতীয় বারের মত নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালাল। এবারের হামলায় বৌদ্ধ ধর্মীয় উগ্রবাদীরাও শামিল হয়েছে বলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন। রোহিঙ্গারা যাতে বসত ভিটা ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যায় সে কারণে মিয়ানমার সরকার সে দেশের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ সংঘাত মূলক পরিস্থিতির সৃষ্টির মত কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারপরও রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে সীমান্ত এলাকা থেকে সংবাদদাতারা জানিয়েছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুঁকে পড়ার পর তাদের আশ্রয় দিচ্ছে এখানে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতাদের প্রতিরোধে এবার টেকনাফ এবং উখিয়ায় বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাড়া মহল্লায় বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন বলেন, সব কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের বলা আছে যদি চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাদের পরিচয় সনাক্ত করে মিয়ানমার ফেরত পাঠানো হবে।

গত বছরের অক্টোবরে হত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতন নিপীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৮৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইওএম এর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৫ লাখের মত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মানবাধিকার কমিশন গত বছর অক্টোবর মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে তাণ্ডব চালিয়েছিল তার তদন্ত করতে চাইলে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বর্তমান মিয়ানমার সরকারের সর্বোচ্চ নেতা আং সান সুচি সরাসরি তা নাকচ করে দেন। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় আং সান সুচি বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েন। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের প্রশ্নে তাঁর শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন রাখাইন রাজ্যের জন্য গঠিত 'এডভাইজারি কমিশন' তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুপারিশ করেছে।

XS
SM
MD
LG