ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ছোট্ট এই দ্বীপে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছিল সরকার। আগাগোড়াই সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিল জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘের তরফে বলা হয়েছিল, ভাসানচরে সাইক্লোন হলে কি পরিস্থিতি হবে সেটা না দেখে এবং দ্বীপটির সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই না করে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও স্থানান্তরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করার চিন্তা মাথায় রেখে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৪৪০ ব্যারাক হাউস, ১২০টি গুচ্ছগ্রাম, ১২০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের কথা ছিল।
শুক্রবার অনেকটা নাটকীয়ভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গা নয়, দেশের গৃহহীন মানুষদের থাকার সুযোগ দেয়া হবে।
শুক্রবার সরজমিনে এই চরটি সফর করে মন্ত্রী বলেন, সেখানে আপাততঃ কয়েকশ’ ঘর তৈরি হয়েছে। আরো ঘরবাড়ি তৈরি হবে। এই এলাকাকে আরো উন্নত করা হবে।
ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে কাটাতারের বেড়া দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে শিবির থেকে পালাতে না পারে সে জন্যই এই কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে।