অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যশোরে দরিদ্রদের শীত দূর করছে “শীত নিবারণ বৃক্ষ”


শীত নিবারণ বৃক্ষ। নামটি শুনেই হয়তো মনে হয়েছে, এমন কোন বৃক্ষ, যে বৃক্ষের নিচে দাঁড়ালে শীত থেকে বাঁচা যাবে। আসলে বাস্তবিক যাপিত জীবনে হুবোহু তেমন না হলেও রুপক অর্থে কিন্তু আসলেই তাই।

দড়াটানা চত্বর, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় চত্বরটিকে। ব্যাস্ততায় ঠাঁসা এই লোকালয়ে একটি রুপক বৃক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এই বৃক্ষের নামই “শীত নিবারণ বৃক্ষ”। এই বৃক্ষেই ঝুলে আছে নানান রঙের, নানান সাইজের নতুন- পুরাতন শীতের অসংখ্য কাপড়। মূলত, এই আয়োজনটি দরিদ্র, অসহায় মানুষদের জন্য। মানুষগুলি কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে দেখেশুনে তাদের প্রয়োজন মতো পছন্দের শীতের পোশাক গাছ থেকে পেড়ে নিতে যাচ্ছেন।

শীতের শুরুতেই দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য অনন্য এই আয়োজনটি মূলত একটি তরুন উদ্দ্যোগ। এর পেছনে আছে স্থানীয় তরুণ বেলাল হোসেন বনি। বনি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবা নিয়ে এই উদ্দ্যোগের সাথে জড়িয়ে আছেন স্থানীয় তরুণ সিরাজুল ইসলাম মৃধা, তাইজুল হোসেন তাজ, রাজু আহমেদ ও তানভির আহমেদ জুয়েলসহ অন্তত ৩০ জন তরুণ। তারা এই কাজটি করতে ফেসবুকেরও সাহায্য নিচ্ছেন।

“সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলো যখন দরিদ্রদের মধ্যে শীতের পোশাক বিতরণ শুরু করে, তখন শীত প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাই আমরা ফেসবুক গ্রুপের সকল সদস্য মিলে শীতের শুরুতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি একটু ভিন্নভাবে। আমাদের এই গ্রুপে ৩০ জন সদস্য আছেন, বেশির ভাগই তরুণ শিক্ষার্থী। প্রথম পর্যায়ে আমরা নিজেরা নিজেদের পুরনো শীতের পোশাক একস্থানে জড়ো করেছি। এরপর দড়াটানা চত্ব্বরে একটি প্রতীকি বৃক্ষ স্থাপন করে তাতে পোশাকগুলো পর্যায়ক্রমে ঝুলিয়ে দিয়েছি।

এরপর থেকে দরিদ্র অসহায় মানুষরা সেখান থেকে নিজেদের সাইজ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক দেখে শুনে নিয়ে যাওয়া শুরু করলেন। এরপর থেকে এই শীত নিবারণ বৃক্ষের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পরতে শুরু করলো”- বলছিলেন “শীত নিবারণ বৃক্ষ” এর উদ্দ্যোক্তা বেলাল হোসেন বনি। তিনি আরও বলেন, “এক মাস ধরে সারা দিনই এই গাছে পোশাক ঝোলানো থাকবে। এখন আমাদের পরিচিত কেউ কেউ তাদের অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় পোষাক দান করে যাচ্ছেন। তবে এতেও আমরা একমাস এই কার্যক্রম চালাতে পারব না। তাই আমরা সবাইকে আহ্বান করছি, যে কেউ ইচ্ছা করলে তাদের পুরনো অপ্রয়োজনীয় পোশাক এই গাছে রেখে যেতে পারবেন। গাছের ওপরে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে। ব্যস্ততার কারণে কেউ যদি তাদের পুরনো পোশাক এখানে দেওয়ার সময় না পান, তাহলে ওই নম্বরে ফোন করলে আমরা তার কাছ থেকে পোশাক নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব।”

​তরুণদের এমন মানবিক উদ্দ্যোগে খুশি এলাকাবাসী ও দরিদ্র, অসহায় মানুষেরা। তরুণরা তাদের অদম্য তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবেন এমন প্রত্যাশা সবার।

XS
SM
MD
LG