অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আশ্রয় প্রার্থী ও শরণার্থীর মধ্যে পার্থক্য: এ নিয়ে আসিফ মুনীরের বিশ্লেষণ


প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছেই। কক্সবাজারে বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টার সেক্টর কর্ডিনেশন গ্রুপ শুক্রবার সবশেষ হিসেবে বলেছে, এই দফায় অর্থাৎ ২৫ আগস্ট থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। মানবিক সহায়তাকারী সংস্থার কর্মীরা এবং স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে আরও শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিপরীতে বাংলাদেশের একেবারে লাগোয়া মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় হাজার রোহিঙ্গা অপেক্ষমাণ রয়েছেন। সাগর উত্তাল থাকায়, নৌযান চলাচল বন্ধ রাখায় তারা আসতে পারছেন না। মানবিক সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই মর্মে সতর্ক করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়াদের লক্ষাধিক শিশু নিদারুন অপুষ্টিতে ভুগছে; তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
এদিকে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে শরণার্থী মর্যাদা দেয়ার শর্তে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদা এখনো দেয়নি।

দেশহীন, নিজ ভিটেমাটিবিহীন, নিশ্চয়তাহীন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক পরিচয় তারা আশ্রয় প্রার্থী- শরণার্থী বা রিফিউজি নন। ১৯৭৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা দেয়নি। বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক প্রটোকলেও স্বাক্ষর করেনি বা এতে অনুমোদন দেয়নি। আশ্রয় প্রার্থী ও শরণার্থীর মধ্যে পার্থক্য কি এবং দেশহীন মানুষগুলোর ক্ষেত্রে কেনো এই ভিন্ন পরিচয়; আবার বাংলাদেশই বা কেনো রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা দিচ্ছে না- এ সব প্রশ্নে বিশ্লেষণ করেছেন অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমএ’র প্রাক্তন কর্মকর্তা আসীফ মুনীর।

XS
SM
MD
LG