অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হিন্দু সম্প্রদায় ও তাঁদের উপাসনালয়ে হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট


১৪ই অক্টোবর কুমিল্লায় ভাংচুর করা একটি মন্দিরের ভেতরের দৃশ্য - ফাইল ফটো- এএফপি

বাংলাদেশের ছয় জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, তাঁদের বাসস্থান ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের একটি উচ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোহাম্মদ কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়। রংপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলা সমূহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত।

একইসঙ্গে এসকল ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত এবং মামলার বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, পুলিশ প্রধান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং ছয় জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস রিট আবেদনটি করেন।

সম্প্রতি দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তরপাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচারিত হওয়ার পর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকরা বলছেন সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কি করে এলো সে বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নাই।

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে নোয়াখালীর চৌমুহনী, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে এ সকল সহিংসতাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মামলা হয়েছে এবং এপর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন সাত শতাধিক লোক।

XS
SM
MD
LG