অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘ ভাষণে বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন


প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন। ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন। ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগের তুলনায় এখন আরও বেশি করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে বাইডেন বলেন, "আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের সমৃদ্ধি এবং আমাদের স্বাধীনতা একে অপরের সাথে সংযুক্ত, যা আগে কখনও ছিল না।"

তিনি উল্লেখ করেন যে "আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ করে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছে।"

এই অবস্থান তার পূর্বসূরি ডনাল্ড ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" মতবাদের বিপরীত।

সামরিক বাহিনী ইস্যুতে বাইডেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আমাদের শেষ অবলম্বনের হাতিয়ার হতে হবে, আমাদের প্রথম নয় এবং সারা বিশ্বে আমরা যে সমস্যা দেখি তার জবাব হিসাবে এটিকে ব্যবহার করা উচিত নয়। "

জাতিসংঘের বার্ষিক এই আয়োজনটি ১৯৩টি সদস্য-রাষ্ট্রকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দেয়।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত প্রায় ১০০ রাষ্ট্রপ্রধানদের ঐ বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে যান বাইডেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্যের পর, তিনি নিউইয়র্কে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।এরপর হোয়াইট হাউজেব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন।

গত সপ্তাহে, তিনটি দেশ একটি নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণা করেছে যার আওতায় ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হুমকি মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি এবং ব্রিটেন তাদের নৌ দক্ষতা সম্পর্কে জ্ঞান দেবে।বিশ্লেষকরা ব্যাপক ভাবে এই পদক্ষেপকে ঐ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

জাতিসংঘে, বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের তার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলবেন।তিনি আগেই বলেছেন যে এটি তার প্রশাসনের প্রকৃত প্রতিপক্ষ চীনের দিকে মনোযোগ দেয়ার একটি অংশ।রবিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেস একটি সম্ভাব্য শীতল যুদ্ধ এড়াতে এবং দুই দেশের "সম্পূর্ণ অকার্যকর" সম্পর্ক ঠিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি আহ্বান জানান

সোমবার প্রেস সচিব জেন সাকি বলেন "আমি সম্পর্কের বর্ণনার সাথে একমত নই।" তিনি যোগ করেন যে বাইডেন গত সপ্তাহে তার চীনা সমকক্ষের সঙ্গে ৯০ মিনিট কথা বলেন যা "উন্নীত পর্যায়ের না হলেও ছিল অকপট ।"

তিনি আরও বলেন: "আগামীকাল প্রেসিডেন্ট বাইডেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেবেন। তিনি তাঁর ভাষণে একেবারে স্পষ্ট করে বলবেন যে ভবিষ্যতে বিশ্বের কোনও দেশের সঙ্গে নতুন কোন শীতল যুদ্ধে যেতে চাইছেন না তিনি।"

বাইডেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন ঐ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে সেই বিষয়গুলোর দিকে আলোকপাত করবেন।

কিন্তু বাইডেনের বিশ্ববাদী, সহযোগিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এক বিশ্রী বাস্তবতার মুখোমুখি। শুক্রবার, আমেরিকার পুরনো মিত্র ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় তাদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়ে তাদের উষ্মা প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-ইভ লে ড্রিওঁ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সাবমেরিন চুক্তি করে ফ্রান্সের "পিঠে ছুরিকাঘাত" করেছে। ঐ চুক্তির কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ৭ হাজার কোটি ডলারের প্রচলিত সাবমেরিন চুক্তি বাতিল হয়ে গেল।

সাকি বলেন যে বাইডেন শীঘ্রই তার ফরাসি সমকক্ষ প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে, যিনি নিউইয়র্ক সফরে আসছেন না, টেলিফোনে কথা বলবেন। বাইডেন প্রশাসন ফ্রান্সের প্রতি ক্ষতিপূরণমূলক কোন পদক্ষেপ নেবে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রেস সচিব জেন সাকি।

XS
SM
MD
LG