অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দিল্লিতে ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ


গতকাল বিকেলে নতুন দিল্লিতে ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে একটি অল্প শক্তির বোমা বিস্ফোরণের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েছে। গতকালের ওই বিস্ফোরণে আশপাশে কুড়ি-পঁচিশ মিটারের মতো জায়গা কেঁপে ওঠে, তবে কেউ হতাহত হননি। কিন্তু যেহেতু ইজরায়েলি দূতাবাসের ব্যাপার, এবং বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর, তাই এই ঘটনার তদন্তে যাতে কোনো ফাঁক না থাকে দেখা হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে এই বিষয়ে দেখাশোনা করছেন। অমিত শাহের গতকাল রাতেই দু'দিনের সফরে কলকাতায় আসার কথা ছিল। আজ শনিবার ও কাল রবিবার এখানে তাঁর অনেকগুলো কর্মসূচিও ছিল। কিন্তু এ যাত্রায় তিনি সফর বাতিল করে দেন। জয়শঙ্কর ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভরসা দিয়েছেন যে, ভারত সরকারের তরফে তদন্তে কোনোরকম শৈথিল্য থাকবে না।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:42 0:00
সরাসরি লিংক

দূতাবাসের প্রতিটি কর্মচারী ও অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভারত সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করার জন্য ইজরায়েল তার নিজস্ব তদন্ত দল ভারতে পাঠাচ্ছে। গতকাল সিসি টিভিতে দেখা গিয়েছিল যে একটি ট্যাক্সি থেকে দু'জন লোককে ওই অঞ্চলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দু'জনই বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত কিনা তার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণস্থলে একটি চিঠি পাওয়া গেছিল, তাতে লেখা ছিল ইরানের একজন জেনারেল এবং একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এবং এটা নিতান্তই পরীক্ষামূলক। এর পর আসলের জন্য তৈরি থাকুন, বদলা নেওয়া হবেই। আজ দিল্লি পুলিশ ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সব খুঁটিনাটি পরীক্ষা করেন। গতকাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ওখান থেকে কিছু কিছু জিনিস উদ্ধার করেছেন। তার মধ্যে একটি ব্যাটারি ও অন্যান্য কিছু যন্ত্রাংশ পাওয়া গিয়েছে, যাতে পুলিশ মনে করছে এটা একটা বৃহত্তর এবং পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। যখন এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তখন তার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান হচ্ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, সকলেই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও। সেখানে নিরাপত্তার জন্য দিল্লি পুলিশের বিরাট বাহিনী ছিল। তাই অন্যান্য জায়গায় নিরাপত্তা বন্ধন অতটা থাকবে না, ষড়যন্ত্রকারীরা তা জানতো। 'জঈশ উল হিন্দ' নামে অজানা একটি সংগঠন ওই বিস্ফোরণের দায় নিয়েছে। তবে পুলিশের ধারণা, তদন্ত ভুল পথে চালিত করার জন্যই এ ভাবে অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে।

XS
SM
MD
LG