অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ গনতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে হেয় করা ছাড়া, আর কিছুই করবে না: ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ওম্যান প্রমিলা জয়পাল


ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিলের সামনে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যালির্ফোনিয়ার কংগ্রেস ওম্যান Judy Chu বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেককে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং কোর্টের আদেশ থাকার পরও তাদেরকে এ্যার্টনীর সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি। এই পদক্ষেপ ভয়ানক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ছাড়াও কংগ্রসে ওম্যান Grace Meng এবং Pramila Jayapal বক্তব্য রাখেন। সেখানে ছিলেন সহকর্মী তাওহীদুল ইসলাম।

Congressional Asian Pacific American Caucus এবং কমিউনিটির নেতারা- মুসলমান ও শরনার্থীদের লক্ষ্য করে যা করা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলের সামনে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে কংগ্রসে ওম্যান Judy Chu, Grace Meng এবং Pramila Jayapal ছাড়াও অভিবাসন বিষয়ে কাজ করে এমন চারটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী বক্তব্য রাখেন। তারা বলনে, ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও সংবিধানের পরিপন্থী।

যুক্তরাষ্ট্ররে ক্যালির্ফোনিয়ার কংগ্রেস ওম্যান এবং Congressional Asian Pacific American Caucus এর চেয়ারম্যান Judy Chu সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,

”আমি জানতে পেরেছি অনেককে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ৭৮ বছর বয়সী মহিলা থেকে সাত মাস বয়সী শিশুও ছিল। ২০ বছর ধরে গ্রীন কার্ড রয়েছে এমন পুরুষকেও চলে যেতে হয়েছে। তাদেরকে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখা হয়েছে, খাবার দেয়া হয়নি। এমনকি কোর্টের আদেশ থাকার পরও তাদেরকে এ্যার্টনীর সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি। এই পদক্ষেপ ভয়ানক। আমাদের কথা বলতে হবে এবং বলতে হবে যে, আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। আমরা আমেরিকাকে যেভাবে জানি, সে ভাবে তৈরী করতে চলুন সংগ্রাম করি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে আমেরিকা যাতে অব্যাহত ভাবে স্বাধীন ভূমি থাকে।“

নিউইয়র্কের কংগ্রেস ওম্যান Grace Meng বলেন,

“আমেরিকা বলতে যা বুঝায় সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ঢালাও ভাবে উদ্ভাস্তুদের আসা বন্ধ হতে পারে না। আমি বলতে চাই, ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালা আমাদের নিরাপদ করছে না এবং তা আমাদের মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়। ডনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক নির্বাহী আদেশ প্রতিহত করতে সোমবার আমরা একটি বিল উপস্থাপন করেছি। যা সত্যিই আমাদের মূল্যবোধের প্রতিফলন। আমরা অভিবাসী জাতি। কেউ এসেছে যুদ্ধ ও নির্যাতনের কারনে, কেউ অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হবার জন্য এদেশে এসেছেন। সবাই আমাদের কমিউনিটিতে অবদান রাখতে পারে।”

ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ওম্যান Pramila Jayapal সবাইকে সোচ্চার হবার আহবান জানান। Jayapal বলনে,

"যাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের বিষয়ে আমরা অন্ততপক্ষে প্রাথমিক তথ্যগুলো পাচ্ছি। তারা যাতে আইনী সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এবং আমাদের মহান গনতন্ত্রের মূল ভিত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিন এশিয়ার মানুষ সম্পর্কে আপনারা হয়তো সাম্প্রতিক সময়ে জেনেছেন। কারন কয়েক দশক আগে আমাদেরও এদেশে আসার অনুমতি ছিল না। যারা অভিবাসন বিষয়ে কাজ করে, তাদের সাথে অভিবাসন পদ্ধতির প্রতিটি অংশ নিয়ে ঘনিষ্ট ভাবে কাজ করছি। আসলে যখন একজন ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তখন আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হই- ড. মার্টিন লুথার কিং এমনটাই বলেছেন।”

নিজের জীবনের কাহিনী তুলে ধরে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এর জাতীয় নির্বাহী পরিচালক Nihad Awad বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সুনামকে আঘাত করেছে। তিনি বলেন-

"আমি একজন উদ্বাস্তু। আমি একজন আমেরকিান। আমেরিকায় এসে আমি সফল হয়েছি। এদেশের মূল্যবোধে আমি বিশ্বাস করি। এদেশের সংবিধান দ্বারা আমি অনুপ্রানিত। আমি দেখতে পাচ্ছি- এই লজ্জ্বাজনক নির্বাহী আদেশ, জাতি হিসাবে আমরা সব উদ্বাস্তু- যারা নিরাপত্তা চাইছে, যারা সম্ভাবনার সন্ধান করছে, যারা যুদ্ধ ও সহিংসতায় ঘর ছাড়া, তাদের স্বাগত জানানোর যে সুনাম রয়েছে, তার প্রতি আঘাত।”

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কমিউনিটি বিশেষ করে মুসলিম কমিউনিটির কি করা উচিত? ভয়েস অফ আমেরিকার এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটনের কংগ্রসে ওম্যান Pramila Jayapal বলনে,

"অভিবাসী কমিউনিটির প্রতি আমার উপদেশ, আপনারা আইন প্র্রনেতা, কংগ্রেসম্যান ও সনেটরকে ফোন করে বলুন যে- এটা অপ্রত্যাশিত, অসাংবিধানকি এবং আমেরিকা সুলভ নয়। আমাদের সবারই উচিত এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে, আমেরিকা আসলে কি বিশ্বাস করে তা মানুষকে স্পষ্ট করে জানানো। আসলে আমরা অব্যাহত ভাবে সারা পৃথিবীর মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাই। এই নির্বাহী আদেশ, গনতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে হেয় করা ছাড়া, আর কিছুই করবে না।“

XS
SM
MD
LG