অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাম্প্রতিক তেল-মূল্য হ্রাসে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো লাভবান হয়েছে


চীন,বিশ্বের আর্থনীতি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করার প্রয়াসে বলছে-বিশ্বের দ্বিতিয় বৃহত্তম তাদের ঐ অর্থনীতি এখনো ভালো অবস্থাতেই বিরাজমান রয়েছে-প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও এবং নিরবচ্ছিন্ন অবচয়ের মধ্যে থেকেও তাদের ইউয়ান মুদ্রার অবস্থা ভালোই। চীনের বহূল কাংখিত সংষ্কার নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিদ্যমান রইলেও চীনের নীতিনির্ধারকেরা আভাসে-ইঙ্গিতে বলতে চাইছেন যে বহু-প্রত্যাশিত ঐ ব্যবস্থার প্রবর্তনে তাঁরা অধিকতর নমনীয় একখানা তরিকা এখতিয়ার করতে চাইছেন।

চীনে এই কিছুকাল আগেও প্রবৃদ্ধি ছিলো দ্বিত্ব্য সংখ্যায় এবং চলেছিলো তা প্রায় দশককাল ধরে আর ওটাই এখন নেমে এসেছে , এই গেলো বছরেই ৬ দশমিক ৮ মাত্রায়।এই যে মুদ্রার সটান অধোগতি যা দেখা দেয় এই গেলো আগস্টে এবং সেই একই সঙ্গে দেশের শেয়ার বাজার নিয়ে নীতি নির্ধারকদের গৃহিত এন্তার সব ভ্রান্ত পদক্ষেপ – সব মিলিয়ে তামাম দুনিয়া জূড়ে বিদ্যুত চমকের মতো সব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এই গেলো শুক্রবার জি টুয়েন্টি অন্তর্গত দেশসমুহের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সমুহের গভর্নরবৃন্দের সমাবেশ চলাকালে, পৃথক আয়োজনে ভিন্নতরো অবস্থানে কথা বলতে গিয়ে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর ঝাও শিয়াওচুয়ান বললেন- রফতানী বাড়ানোর স্বার্থে মুদ্রার অবচয়কে চীন ব্যবহার করতে চায়নি।তার দরকারও নেই- কেননা, রফতানী বানিজ্যে এখনো বহূত বলশালী চীন।(এ্যাক্ট)

বলেন- গেলো বছরের মোট রফতানীর পরিমান ছিলো অনেক বেশি। দ্রব্য সামগ্রীর রফতানীতে উদ্বৃত্তের পরিমান ছিলো ষাইট হাজার কোটি ডলার আর সে কারনেই চীনের রফতানী বাড়িয়ে তোলার কাজে মূদ্রা অবচয়-প্রতিদ্বন্দীতায় যেতে চাইনি আমরা- ঝাও বললেন।

সে যাই হোক। জানুয়ারীতে প্রকাশিত-প্রচারিত পরিসংখ্যান থেকে দেখা গিয়েছে চীনের রফতানী পর পর সাত মাস এক নাগাড়ে কমেছে এবং একই সঙ্গে চীন আগের মতো রফতানী নির্ভর সাবেকী প্রবৃদ্ধি তরিকা অনুসরন না করে বেশি নির্ভর করতে চাইছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রনাধীন অর্থনীতিকে বাজারমুখি করার প্রয়াস পানে।

চীনের পিপলস ব্যাঙ্কের গভর্ণর ঝাও শিয়াওচুয়ান বললেন- চীনের আর্থ বিষয়ক নীতিমালা হবে আরো বেশি সক্রিয় এবং দেশের নেতারা সংষ্কার নিয়ে আরো দায়বদ্ধ থাকবার প্রত্যয়ে দৃপ্ত রইবেন।

সংষ্কারের গতিপথ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই- ওটা একদমই পরিস্কার এবং ঐ সংষ্কারের জন্যে সুযোগ সুবিধের দরকার হবে-পরিস্থিতি সূষম হতে হবে – তবে, গতিধারায় রকমফের হতেও পারে – অবশ্য সংষ্কার হবে নির্দিষ্ট সূচি মোতাবেক-গতিপথ বদলাবে না মোটে – বললেন তিনি।।

পর্যবেক্ষকদের কারো কারো অভিমত চীন আর্থ বাজারের গতিপথ এখন যে পুরোপুরি আর নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে না এটা বুঝতে পারছে বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। গেলো বছরে চীনের শেয়ার বাজারের গভীর পতন তারা ঠেকাতে পারেনি – পাঁচ লক্ষ কোটি ডলার পরিমান অর্থের মূল্যক্ষয় রুখতে পারেনি তারা।

আঁটশাঁট করে গতিরুদ্ধ প্রতিবন্ধক জানুয়ারীতে যা খাড়া করা হয়েছিলো তা দিন কয়েকেই সরিয়ে নিতে হয়েছিলো।শুক্রবার শেয়ার মূল্যে জি টূয়েন্টি সমাবেশ শুরুর দু’দিনের মধ্যে উর্ধগতি পরিলক্ষিত হয় কিন্তু সেটা এক সপ্তাহের হিসেবে কমই ছিলো ।এখনো অব্দি চীনের শেয়ার সূচকে ২১ শতাংশ অধোগতি দেখা গিয়েছে।

চীনের অর্থমন্ত্রী লাউ জিউই, জি টুয়েন্টি অন্তর্গত দেশগুলোকে আর্থিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরো এককাট্রা হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সীমান্তবর্তী দেয়া নেয়ার বানিজ্য ক্ষেত্রে বাধাবিপত্তি আরো মান্য করার দাবি জানান তিনি।

এই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্যান্য দেশ যোগাযোগ নিয়ে বেশ উচ্চকিত উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেছে- বিশেষ করে আগস্টে চীনের ইউয়ান মূদ্রার হঠাৎ অবচয় দেখা দেবার পর পরই।এই হালে ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যাক লিউ বলেন-চীনকে তার নীতির অভিপ্রায় সম্পর্কে স্পষ্ট করে যাথার্থ প্রস্ফুটিত করতে হবে নয়তো, অন্যেরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা বানিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

অনেক দেশই প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক পদ্ধতিতে পরিকাঠামোগত রদবদলের প্রত্যাশা করছে যাতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলা সহজ হতে পারে এবং তেলের মতো সামগ্রীর হঠাত-তীব্র মূল্যহ্রাসের প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে পারা যায়।

সাম্প্রতিক তেল-মূল্য হ্রাসে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো লাভবান হয়েছে কিন্তু এ ফায়দা পুরোপুরি অর্জনে তারা সক্ষম হয়নি এ কারনে যে যথোপযুক্ত সূসংবদ্ধ প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক পরিকাঠামো যথোপযুক্তভাবে সন্নিবেশ করা নেই- সে কথাটাই বললেন ভয়েস অফ এ্যামেরিকাকে, OECD-র সেক্রেটারী জেনারেল এ্যাঞ্জেল গুরিয়া।(এ্যাক্ট)

বলেন- বহু দেশেরই অর্থনৈতিক সমস্যার কারণই হলো সূবিন্যস্ত উপযোজন ও সংষ্কারের অনুপস্থিতি।

ভয়েস অফ এ্যামেরিকার রিপোর্ট পড়ছেন সরকার কবীরুদ্দীন:

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:04:51 0:00

XS
SM
MD
LG