অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বের সেরা ১০০টি বন্দরের তালিকায় ৯ ধাপ পেছালো চট্টগ্রাম বন্দর


ফাইল ফটো-মালয়েশিয়ার জাহাজ নটিক্যাল আলিয়া, রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে চট্টগ্রামের বন্দরে পৌঁছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।

বিশ্বের আধুনিক ও সেরা বন্দরের তালিকা থেকে নয় ধাপ পিছিয়ে গেল বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম। বিশ্বের ১০০টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবস্থান ৬৭তম। ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৫৮ তম। এই তালিকায় ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের স্থান করে ছিল ৬৪ তম ।

বন্দর ও শিপিং বিষয়ক লন্ডন ভিত্তিক জার্নাল লয়েড’স লিষ্ট ২৩ আগষ্ট প্রকাশিত তালিকায় এই তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০২০ সালে বিশ্বের অভিজাত এসব বন্দরে কন্টেইনার পরিবহণ নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আর্ন্তজাতিক জার্নাল লয়েড’স লিষ্ট।

তালিকায় ২৬ তম স্থানে ভারতে মুন্ড্রা বন্দর এবং ৩৯তম স্থানে রয়েছে ভারতের জওহরলাল নেহেরু বন্দর। পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান ৮৬তম।

লয়েডস’এর র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বে ৬৩ কোটি ২০ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। যা ২০১৯ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম। আর একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন কমেছে ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের আমদানি রফতানি বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ পরিবহন করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের পর থেকে ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের ১০০ আধুনিক ও সেরা বন্দরের তালিকায় সম্পৃক্ত হয়। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৮৬তম স্থানে থাকলেও ২০১৯ সালে ৫৮তম স্থানে উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয় ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কনটেইনার পরিচালনা করেছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করেছে। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহণ কমে যায় ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিশ্বের সেরা একশ’টি বন্দরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। ১০০তম স্থানেও রয়েছে চীনের জিনজোও বন্দর।

এরপর তালিকায় ধারাবাহিকভাবে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর, চীনের নিংবো জওশান বন্দর, চীনের সেনজেন বন্দর, চীনের জুয়াংজউ বন্দর, চীনের কিংডাও বন্দর, সাউথ কোরিয়ার বুসান বন্দর, চীনের তিয়ানজিন বন্দর, চীনের হংকং বন্দর, নেদারল্যান্ডের রোটারডাম বন্দর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দর, মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং, বেলজিয়ামের এন্টওয়্যার্প, চীনের জিয়ামেন, মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস, তাইওয়ানের তাওসিউং, আমেরিকার লস এঞ্জেলস, জার্মানির হামবার্গ, আমেরিকার লংবিচ, ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, আমেরিকার নিউইয়র্ক বন্দর, থাইল্যান্ডের লাইম চাবাং, ইন্দোনেশিয়ার তানজুং প্রিয়ক, শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন সাংবাদিকদে জানান, বিশ্বে মহামারি করোনার কারণে ২০২০ সালে সারা বিশ্বে সমুদ্র বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। তার কিছুটা ঢেউ লেগেছে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রমে। তবে, করোনার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘন্টা সচল রয়েছে। বন্দর কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরে আসায় চট্টগ্রাম বন্দর আবারো বিশ্বের ১০০টি বন্দরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন কার্গো পণ্য আমদানী হয়েছে ৯ কোটি ৯২লাখ ৪০হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন। রফতানী হয়েছে ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন। কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং হয়েছে ২৭লাখ ৬৮ হাজার ১৮৪ টিইইউএস। জাহাজ হ্যান্ডেলিং হয়েছে চার হাজার ৬২টি।

XS
SM
MD
LG