অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

‘ক্লিনফ্লুয়েন্সার্স’ আরও জনপ্রিয়তা অর্জন করছে


করোনভাইরাস মোকাবিলা করতে-নির্ধারিত লকডাউনগুলির সময়, লক্ষ লক্ষ লোক তথাকথিত "ক্লিনফ্লুয়েন্সার্স" নামে অনলাইন ব্লগারদের অনুসরণ করতে শুরু করেছে, যারা একদিকে কীভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে থাকতে হয় সেগুলি সম্পর্কে দরকারী জ্ঞান অর্জন করেন, অপরদিকে অন্যদের বাড়িগুলি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদেরকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করেন। এ বিষয়ে ভিওএর সংবাদদাতা নিনা বিষ্ণেভার প্রতিবেদন থেকে জয়তী দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন যে, ‘ক্লিনফ্লুয়েন্সার্স’এর এই ভিডিওগুলি ব্লকবাস্টার বা হত্যার রহস্য নয়, তবে এই ভিডিও ক্লিপগুলি থেকে আপনার চোখ সরিয়ে নেওয়া খুব শক্ত হবে। ক্লিনিং ভিডিওগুলি বিশেষতঃ মহামারীর সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্লিনফ্লুয়েন্সার্সরা, যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আগ্রহী তাদের বাড়ির নকশার রূপান্তরগুলি অনলাইনে পোস্ট করে এবং অন্যকেও এইভাবে করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

ক্লিনফ্লুয়েন্সার্স আমান্ডা বলেন, "আজ আমরা এক সাথে একটি পুরো ঘর পরিষ্কার করতে যাচ্ছি, আমি সবসময় ভালোবাসি পুরো বাড়ী উপর থেকে নীচ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে কেননা এতে অনেক ভাল লাগে, এবং আমি মনে করি এভাবে পরিষ্কার করলে অনেকদিন অবধি বাড়ি পরিষ্কার থাকে!" যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা রাজ্যের বসবাসকারী আমান্ডা পেজ তার তৃতীয় পুত্র সন্তানের জন্মের পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত ভিডিওগুলি তৈরি করা শুরু করেছিলেন। আমান্ডা পেজ বলেন, “আমার তৃতীয় পুত্র সন্তানের জন্মের পরে আমি প্রসব-পরবর্তী বিষন্নতায় ভুগছিলাম এবং আমার এই বিষণ্ণতা দূর করার জন্য ঊপায় খুঁজছিলাম, এবং আমি শখ হিসাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি আমার চ্যানেলে গ্রাহকের সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে অনেক বেড়ে যায়"। আমান্ডার স্বামী তার এই পরিষ্কার করার শখের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং তাদের তিনটি বাচ্চা, যদিও তারা খুবই ছোট, যতটা পারে সাহায্য করতো। আজ, তাদের এই ক্রেজি লাইফ নামে ইউটিউব চ্যানেলের তিন লক্ষেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে।

টিকটক @ লাইফসবুক সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিচালক অ্যান্টয়েন কানিংহাম বলেন, “ওহ, আমরা কি আমাদের ওয়াশিং মেশিনগুলিও পরিষ্কার করব? শুনুন, আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না, বিশ্বাস করুন, আমি কখনই এটা জানতাম না"। স্নানের জন্য ঝর্ণার ড্রেনগুলি পরিষ্কার করা, ওয়াশিং মেশিন থেকে নোংরা শেওলা পরিষ্কার করা - এটি যতটা বিরক্তিকর শুনতে লাগুক, ভিডিওটি তত বেশি দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যরা পরিষ্কার করা দেখতে পছন্দ করে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভিডিওগুলি মানসিক রোগীদের জন্য মনোযোগ আকর্ষণকারী এবং অপরদিকে যথেষ্ট আনন্দদায়কও বটে।

নিউরোলজিস্ট বা মস্তিষ্ক বিশারদ মিচেল ক্রিড বলেন, “যেভাবে আমাদের অনুভূতিগুলি তৈরি হয় বারবার এই জাতীয় ভিডিওগুলি দেখার ফলে তার সাথে আমরা যুক্ত হতে শুরু করি। সুতরাং, তারা আমাদের স্বচ্ছন্দ, শান্ত, সন্তুষ্ট বোধ করতে সাহায্য করে"। প্রায় আট বছর আগে তিনি রেডডিটে ‘ওডলি স্যাটিসফায়িং’ নামে ভিডিও দিয়ে তৈরি একটি অনলাইনে থ্রেড চালু করেছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর ৬০ লক্ষ অনুগামী তৈরি হয়।

এবং করোনাভাইরাস মহামারী আঘাত হানার পরে, পরিষ্কার করার ভিডিওগুলি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল - লোকেরা যখন তাদের নিজের ঘরে আবদ্ধ থাকে, তখন তাদের মনের ইচ্ছাগুলি প্রকাশ করতে কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই ভিডিওগুলিকে অনুসরণ করলে কিছুটা কাজ হয়।মস্তিষ্ক বিশারদ মিচেল ক্রিড বলেন, "মানুষ মাসের পর মাস বাড়ীর ভিতরে আবদ্ধ ছিল, এবং তারা তাদের ঘর পরিষ্কার করতে পেরেছে।"

২০২০ সালে শুধুমাত্র টিকটকেই #ক্ল্যানিংয়ের হ্যাশট্যাগ দেওয়া সংক্ষিপ্ত ক্লিপগুলি ৮ বিলিয়ন অর্থাৎ ৮০০ কোটি দর্শক দেখেছে, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলিতেও একই ফলাফল দেখা গেছে।

ক্লিনফ্লুয়েন্সার্স আমান্ডা পেজ বলেন, "হোমমেকিং সত্যিই জাগতিক অথবা সাংসারিক কাজ হতে পারে এবং এটি করতে করতে কখনও কখনও আপনি একাকী বোধ করবেন। তবে ভিডিওগুলিতে কাউকে এরকমভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখলে আপনার মনে হবে আপনিও তাদেরই একজন, এবং আপনি একা নন।” আমন্ডা বিশ্বাস করেন যে, পরিষ্কার করার এই ভিডিওগুলির জনপ্রিয়তা মহামারীর সময় আরও অনেক বেড়ে যাবে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:29 0:00



XS
SM
MD
LG