অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কোবরার ছোবল খাইয়ে স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করলো ভারতের আদালত 


কেরালায় সাপের ছোবল খাইয়ে স্ত্রী উথরাকে মারার অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত স্বামী সূরয- ফটো- দ্য ওয়াল

সোমবার ভারতের কেরালার এক আদালত স্ত্রী উথরাকে সাপের ছোবল খাইয়ে মারার অভিযোগে স্বামী সূরযকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩০৭, ৩২৭ এবং ২০১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। কোল্লাম জেলার অতিরিক্ত দায়রা আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সূরযকে।

দু’বার সাপের ছোবল খাইয়ে স্ত্রীকে খুন করেন কেরালার ২৭-বছরের যুবক। হত্যার এই কৌশল দেখে বিস্মিত হয়েছেন পুলিশ কর্তারাও। কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সাপের ছোবল খাইয়ে খুন করার প্রবণতা বাড়ছে ভারতে। কেরালার ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। আশ্চর্যের বিষয় হল, পুলিশ কর্তারা বলছেন যেভাবে খুন করা হয়েছে তাতে অপরাধীর নাগাল পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। শুরুতে বোঝা যায়নি পরিকল্পিতভাবে সাপের ছোবল খাওয়ানো হয়েছিল মহিলাকে।

উথরাকে (২৫) খুনের অভিযোগে তাঁর স্বামী সূরযকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত বছর ৭ মে উথরার মৃত্যু হয়। সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। এর আগে মার্চ মাসেও সাপের কামড় খেয়ে প্রাণে বেঁচে যান উথরা। প্রথমে সন্দেহ হয়নি। কিন্তু পরে মৃতার পরিবারের লোকজন দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে উথরাকে।অভিযোগের আঙুল ওঠে তাঁর স্বামী সূরযের দিকে।

তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূরযকে জেরা করা হয়। তাঁর অসংলগ্ন কথাবার্তাতে সন্দেহ আরও বাড়ে। জানা যায়, মার্চ মাসে সাপের ছোবল খাওয়ার পরে অবস্থা সঙ্কটজনক হয়েছিল উথরার। প্রায় মাস দুয়েক হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, ইচ্ছা করেই উথরার ঘরে সাপ ছেড়ে দিয়েছিল সূরয। সুরেশ নামে অক সাপুড়ের কাছ থেকে সাপ ভাড়া নিয়েছিল সে। প্রথমবারও একই কায়দায় সাপের ছোবল খাওয়ানো হয় উথরাকে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার আরও বিষধর কোবরা ছেড়ে দেওয়া হয় উথরার ঘরে।

রাজস্থানেও এমন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, সাপের ছোবল খাইয়ে খুন করা নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটিতে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, দেশজুড়ে এমন ঘটনা বেড়ে চলেছে যা রীতিমতো চিন্তার কারণ। সাপুড়ের কাছ থেকে বিষধর সাপ জোগাড় করে তার ছোবল খাইয়ে খুন করানো হচ্ছে।

XS
SM
MD
LG