অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনায় একদিনে রেকর্ড মৃত্যু


করোনা রুগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

বাংলাদেশে প্রতিদিনই করোনার রেকর্ড ভঙ্গ হচ্ছে। হয় সংক্রমণে। নাহয় মৃত্যুতে। ২৪ ঘণ্টা আগে এক লাফে সংক্রমণ বেড়ে ১১ হাজার ৫২৫ হয়েছিল। মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৬৩। একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু দুইশো ছাড়িয়েছে। সংক্রমণে কিছুটা হেরফের। আগের দিনের তুলনায় ৩৬৩ জন কমেছে। করোনার শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত একদিন সংক্রমণ বাড়ে, অন্যদিন কমে। গত সাত দিনে এক হাজার ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ৩১০ জন। ইতিপূর্বে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ শনাক্ত বা মৃত্যু বরণ করেননি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণের হার বেড়েছে ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বে ২৯ তম। এশিয়ায় সপ্তম স্থানে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান থেকেই এটা জানা গেছে। মাত্র দু'দিন আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩০ তম। রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি রাতারাতি পাল্টে গেছে।

ওদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। বেড সংকট তীব্র। অনেক স্থানে বেড খালি না থাকায় খোলা বারান্দায় রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে।বাংলাদেশে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রয়েছে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১২৯টি। ঢাকায় ৪৩টি। সারাদেশে সাধারণ বেড রয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৯টি। আইসিইউ বেড রয়েছে এক হাজার ২১৫ টি।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে বেড সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা যায় কিনা সে ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনা হচ্ছে।

বয়সসীমা ৩৫ বছরে নামিয়ে বুধবার থেকে ফের টিকা নিবন্ধন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসার পর গত ২৬শে জানুয়ারি থেকে টিকার নিবন্ধন শুরু হয়। ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট টিকা সরবরাহ না করায় ২৫শে এপ্রিল টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নিবন্ধনও বন্ধ করে দেয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৫ লাখ ডোজ টিকা আসতে পারে। চীন থেকে প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা আসবে। এ মাসের শেষ দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ১০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসার কথা রয়েছে।

লকডাউনের সপ্তম দিনে রাস্তায় যান চলাচল আরও বেড়েছে। যানজটও দেখা গেছে কোনো কোনো স্থানে। পাড়া-মহল্লায় বেশ কিছু দোকানপাটও খুলেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র এই পরিস্থিতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, এভাবে লকডাউন অমান্য করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। লকডাউনে যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারা যাতে সংক্রমিত না হন সেদিকে নজর দিতে বলেছেন উচ্চ আদালত। বলা হয়েছে, যেভাবে গাদাগাদি করে আদালতে তোলা হচ্ছে তাতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যাবে। এর বিকল্প ব্যবস্থা কী নেয়া যায় তা ভাবতে বলেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। লকডাউনের বিধি-নিষেধ অমান্য করে বাইরে বের হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কোর্ট-হাজতে না পাঠিয়ে থানায় রেখে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন এই আবেদন করেছেন। আর্জিতে আসাদ উদ্দিন বলেন, লকডাউনে প্রতিদিন শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। গত ছয় দিনে তিন হাজার ৬৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের প্রিজনভ্যানে গাদাগাদি করে কোর্ট-হাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

XS
SM
MD
LG