অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গ্রীনকার্ড সঙ্গে না রাখা ফেডারেল ক্রাইম: ম্যারিল্যান্ডের এক আলোচনায় অ্যাটর্নীরা


যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অভিবাসন নীতিমালা সংক্রান্ত এক প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অভিবাসীদের মধ্যে, যাদের গ্রীনকার্ড রয়েছে, তাদের নিজের সঙ্গে কার্ডটি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটর্নীরা। কারন গ্রীনকার্ড সঙ্গে না রাখা ফেডারেল ক্রাইম । সেই সাথে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে ভয় না পেয়ে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন আইনজীবীরা। ঐ প্যানেল আলোচনায় বিস্তারিত জানাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার ও তাওহীদুল ইসলাম।

please wait

No media source currently available

0:00 0:07:55 0:00

ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার দক্ষিন এশিয়ান আমেরিকান কমিউনিটি অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিমালা সংক্রান্ত এক প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন চারজন অ্যার্টনী এবং অভিবাসীদের বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। তারা ভারতীয় ও বাংলাদেশী সহ দক্ষিন এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ ও অভিবাসন নীতি মালার সবশেষ পরিস্তিতি তুলে ধরেন। এসময় এশিয়ান প্যাসেফিক আমেরিকান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক Naznin Saifi বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ছয়টি মুসলিম দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন, তার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। তবে আরো দুটি নির্বাহী আদেশ রয়েছে, যা অভিবাসীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করেন Naznin Saifi. তিনি বলেন-

“তার মধ্যে Enhancing Public Safety in the Interior of the United States স্বাক্ষরিত হয় ২৫ জানুয়ারী। এ কারনেই তারা মেক্সিকোর সঙ্গে থাকা দক্ষিন সীমান্তে দেয়াল তৈরীর কথা বলছেন। এখন এটা হচ্ছে না। কারন কংগ্রেস বলছে, তারা এটা বাজেটে অর্ন্তভুক্ত করবেন না। কিন্তু এর অন্য একটি দিক অভিবাসী কমিউনিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, এমন সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই নির্বাহী আদেশে বলা হয়, আগে যারা অপরাধ করেছে কেবল তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলেও, এখন যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যারা অপরাধ করেছে বা করতে পারে- এমন যে কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তারা যদি বিশ্বাস করে, স্বল্প আয়ের মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে যে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়, আপনি তার অপব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ আপনি যদি ফুড স্টাম্প, মেডিকেইড ও মেডিকেয়ারের অপব্যবহার করেছেন, তাহলেও কোন এক পর্যায়ে আপনি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। এমন অনেকে আছেন, যারা আইনগত ভাবে এদেশে পারমেনেন্ট রেসিডেন্স বা গ্রীনকার্ড নিয়ে আছেন, এমনকি কাগজপত্র নেই এমন অভিবাসী যাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহন করেছে এমন সন্তান রয়েছে- তারা ঐসব কর্মসূচী থেকে সুবিধা পাবার যোগ্য।"

Naznin Saifi বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত কোন বিষয়ে পুলিশ যদি আপনাকে কোথাও থামিয়ে জিজ্ঞাসা করে, সেক্ষেত্রে আপনি ঠিক ঐ সময় কোথায় রয়েছেন, তা যথাযথ ভাবে জানতে হবে। এছাড়া আপনাকে আইনী সহায়তা দিতে পারে এমন কারো ফল নম্বর স্মরন রাখার পরামর্শ দেন Naznin। তিনি বলেন-

“প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর নির্বাহী আদেশে বস্তুত বলা হচ্ছে- আপনি কোথা থেকে এসেছেন, আপনার অভিবাসন মর্যাদা কি- তা বিবেচ্য বিষয় নয়। আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হন, তাহলে সরকার আপনাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে। এবং আমি মানুষকে বলি- সতর্ক থাকতে। আপনি যদি পারমেনেন্ট রেসিডেন্স হন, তাহলে কার্ডটি সঙ্গে রাখুন। যদি তা না করেন তাহলে তা ফেডারেল ক্রাইম।“

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নী এবং এফবিআই পরিচালকের সাবেক সিনিয়র পরামর্শদাতা Paul Tiao বলেন-

“যদি এমন কোন অবস্থানে আপনি থাকেন যে, আপনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাহলে আপনাকে বেশ সতর্ক হতে হবে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন কেন্দ্রীয় সরকার কোন ব্যক্তির অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করে সফল ভাবে আইনগত অভিযোগ আনতে সক্ষম হয় না, তখন তারা হয়তো 18 USC 1001 এর ভিত্তিতে দন্ডাদেশের বিষয়ে একটা উপসংহারে পৌঁছায়। সুতরাং এটা খুব গুরুত্বপূর্ন যে, যখন আপনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন আপনার একজন আইনজীবী থাকতে হবে।“

এসব বিষয় নিয়ে ভয় না পেয়ে সচেতন হবার আহবান জানান অ্যার্টনী এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবার সাবেক ন্যায়পাল Prakash Khatri । তিনি বলেন-

“ভয়ে এক পাশে বসে থেকে- ‘কি হচ্ছে জানি না’ বলার পরিবর্তে অভিবাসী হিসাবে আপনার অনুপ্রানিত হওয়া উচিৎ। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ। আপনার কথা বলা শুরু করতে হবে। আপনার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলুন, সেনেটরদের অফিস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলুন, কমিউনিটির অন্য প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলুন। অভিভাবক- শিক্ষক এসোসিয়েশনে যান এবং মতামত বিনিময় করুন। আপনি বুঝতে পারবেন, বিশ্বের মহান কয়েকটি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি, যেখানে অভিবাসীরা নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারে, কংগ্রেসম্যান হতে পারে। বেশ কয়েকজন অভিবাসী কংগ্রেসম্যান ও সেনেটর হয়েছেন। যেকোন পদে আপনি যেতে পারেন। অভিবাসী কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না। কিন্তু অভিবাসীর সন্তান প্রেসিডেন্ট হতে পারবে । “

অ্যার্টনী Prakash Khatri যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

“সুতরাং অভিবাসন সংক্রান্ত সমগ্র বিষয়, ভয় এবং বিদ্যমান কিছু বাস্তবতা সত্ত্বে আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রেসিডেন্ট যেকোন ধরনের নির্বাহী আদেশ জারি করুক না কেন, কিছু ক্ষেত্রে এর খানিকটা প্রভাব থাকলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ ব্যক্তি হিসাবে আপনার ওপর এর কোন প্রভাব নেই। আর যদি প্রভাব আসেও, তার জন্যে অনেক অনেক মাস ও বছর লেগে যাবে। কারন এই দেশে সরকারের তিনটি শাখা রয়েছে। আইন শাখা অর্থাৎ কংগ্রেস যা আইন প্রনয়ন করে, মুলত নির্বাহী শাখা তা গ্রহন করে। এবং ঐ আইন বাস্তবায়ন করে। সুতরাং প্রেসিডেন্ট হয়তো নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করতে পারেন, কিন্তু এর মানে তিনি কংগ্রেসকে বলছেন, এটা পাশ করতে সাহায্য করো। যতক্ষন এটা পাশ না হচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত কিছুই হচ্ছে না।“

আইনজীবীরা পরামর্শ দেন, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় অভিবাসীরা যেন সব তথ্য যথাযথ ভাবে দেন। এমনকি নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে নাম লেখার সময় আবেদকারীকে তার ডাক নাম লেখা এবং ঐ নামের সঙ্গে সামাজিক গনমাধ্যমে থাকা নামের মিল আছে কিনা তাও লক্ষ্য করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও নাগরিকত্বের আবেদন পত্রে থাকা প্রশ্নের, হাঁ- না উত্তর দেবার সময় আরো যত্নবান হবারও কথা বলেন আইনজীবীরা।

XS
SM
MD
LG