অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

করোনার জাল টিকা দেয়ার অভিযোগে চারজন গ্রেফতার; ফাঁদে পড়েছিলেন মিমি চক্রবর্তীও


করোনার জাল টিকা দেয়ার অভিযোগে মূল হোতা দেবাঞ্জন দেব-সহচারজন গ্রেফতার

করোনা ভ্যাকসিনের আকালের সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কসবা অঞ্চলে একটি জাল টিকাদান শিবির খুলে বসে ছিল দেবাঞ্জন। তাতে কলকাতা পুরসভার নাম করে করোনা প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছিল।

করোনার ভুয়া টিকা কাণ্ডের মূল পাণ্ডা দেবাঞ্জন দেব-সহ ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির সঙ্গে সঙ্গে খুনের চেষ্টার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

করোনা ভ্যাকসিনের আকালের সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কসবা অঞ্চলে একটি জাল টিকাদান শিবির খুলে বসে ছিল দেবাঞ্জন। তাতে কলকাতা পুরসভার নাম করে করোনা প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছিল। বলা বাহুল্য, ভ্যাকসিনের ভায়ালে করোনার প্রতিষেধক ছিল না, তার লেবেলও জাল ছিল। কিন্তু পরিপাটি ব্যাবস্থা দেখে লোকের সন্দেহ হয়নি।গত মঙ্গলবার টলিউডের অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য মিমি চক্রবর্তী সেখানে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সন্দেহ হয় যে কিছু গণ্ডগোল রয়েছে। তিনি পুলিশকে জানান এবং দেবাঞ্জন পুলিশের জালে ধরা পড়ে। পরে তার সহকারী আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেই আটশোরও বেশি লোককে ওই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন ওঠে, খোদ কলকাতায় বসে দেবাঞ্জন দেব নিজেকে আইএএস অফিসার পরিচয় দিয়ে কলকাতা পুরসভার লোগো বসানো প্যাড, রাবার স্ট্যাম্প এমনকি কমিশনারের সই জাল করে কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই এই ব্যবসা ফেঁদে বসে ছিল, অথচ এর মধ্যে কারও কোনও সন্দেহ হল না, প্রশ্ন জাগল না কেন। মিমি চক্রবর্তীর যদি সন্দেহ না হতো তা হলে এটা আরও কতদিন চলত বলা যায়‌ না।

এখন এটা জানাজানি হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন এদের বিরুদ্ধে যেন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা বলে খুনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়। সেইমতো করা হয়েছে।

এরই মধ্যে শনিবার সকালে মিমি চক্রবর্তী তাঁর বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে থাকেন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁর ডাক্তার তাঁকে পরীক্ষা করার পর বলেছেন, ওঁর আগে থেকে কিছু অসুখ ছিল। তা ছাড়া ভুয়া ইঞ্জেকশন শরীরে ঢুকেছে এটা জানার পরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েও উনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এই মুহূর্তে চিন্তার কিছু নেই।

তবে বলাই বাহুল্য, এই বিরাট ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নানান ঝামেলার মধ্যে আর একটি যোগ হল। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা, বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে কারা আছে খুঁজে বার করতে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন। ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে সত্যি কাদের মদত আছে তা জানাটাও পুলিশের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।

XS
SM
MD
LG