অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সুযোগ বঞ্চিত ধারাভি বস্তির শিশু কিশোরদের রক ব্যান্ড


এশিয়ার সবচাইতে বড় বস্তি হচ্ছে ধারাভি। ঘিঞ্জি এই বস্তির চিপা অলিগলিতে বসবাসকারী মানুষগুলো সূর্যের মুখ দেখে না বললেই চলে। সারা বস্তি জুড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন বিরাজ করেলেও কিছু কিছু গলি কিন্তু মোটেও সংকীর্ণ বা অন্ধকার নয়---মেধা আর প্রতিভার দ্যুতি বস্তির অলিগলি ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাইরের জগতেও।
সরু নংড়া একটি গলির একেবারে শেষ মাথা এমনই ভাবেই আলোয় উদ্ভাসিত। কিভাবে এটা সম্ভব হ’লো সে কথাই আপনাদের শোনাব। একর্ন ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভ জনক প্রতিষ্ঠান গত দশ বছর ধরে বস্তির ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে কাজ করছে। ছোট ছেলে-মেয়েদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এরা নিবেদিত প্রাণ।
একর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতাভিনোদ সেট্টি। তিনি বললেন, আমরা এমন কিছু করার চেষ্টা করছে যাতে এই বস্তি জীবন ছেড়ে এরা বেড়িয়ে আসতে পারে। তাদের ও যে বাঁচবার অধিকার আছে সেই সুযোগটা তাদের করে দিতে হবে।

বস্তির শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে একর্ণ পুনর ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিকেরড্রামকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ড্রাম বাজাতে শিখানো শুরু করে। আর এভাবেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে জন্ম নেয়ধারাভি সংগীত দল---ধারাভী রক গ্রুপের। এই উদ্যোগ প্রশংসিত হছেয়ে। আর সেই সংগে সুযোগ বঞ্চিত ঐসব শিশুকিশোরদের সাহায্যের জন্য এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যও এগিয়ে আসেন অনেক সংগীতএবং যন্ত্রশিল্পীরা।
একর্ন-এরপ্রতিষ্ঠাতাভিনোদ সেট্টি বললেন, বাচ্চারা প্লাস্টিকের যে ড্রামটি দিয়ে বাজনা বাজানো শিখছে সেটা তারা বাড়ী নিয়ে গিয়ে চর্চা করতে পারে। বাজনা শেখানোর জন্য আমরা যা ব্যবহার করছি সেটা একেবারেই দামী কিছু নয়। সবার বাড়ীতেই এই ধরনের ড্রাম থাকে। প্লাস্টিকের ড্রাম আর বালতি দিয়েই কিন্তু এই রক ব্যান্ডের পথযাত্রা।

ভারতের নানা স্থানে ধারাভি রক গানের দলটি এপর্যন্ত দেড়’শর বেশি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। এমন কি এরা লন্ডনেও অনুষ্ঠান করেছে। ঐ দলটি কোন কোন সদস্য হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। ভারতী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলিউডধারাভী রক ব্যান্ডেরঅনেক সদস্যের প্রশংসা করেছে। রক ব্যান্ডের একজন নারী সদস্য সজিয়া বললেন, "আমরা বলিউডের অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের সংগে দেখা করেছি। ৩দিন তার সংগে আমরা নাচ চর্চা করেছি। আমি প্রতিদিনই যখন সেখানে গেছি আমার দারুণ ভাল লেগেছে।"
ঐ দলের আরেক সদস্য সন্দীপ মণ্ডল বলল, "আমাদের ছবি ছাপা হয়েছে খবরের কাগজে, আমাদের ভিডিও দেখানো হয়েছে টেলিভিশনে এবং ইউটিউবে আমাদের ভিডিও আছে। এই ব্যান্ডের কারণে আমরা পরিচিতি পেয়েছি।"

মঞ্জু পরিমলও রক ব্যান্ডের আরেক সদস্য, তিনি বললেন "আমি শিখতে চাই এবং আমি এদের সংগে বাজাই। আমরা একসঙ্গে প্রচুর হাসি ঠাট্টা করি প্রচুর মজাও করি।"
এই গলির ভেতর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে নৃত্যকলাও। নাচের কোন বিশেষ ধারা নয় বরং সহজাত ভাবেই নাচ শেখানো হচ্ছে ----লক্ষ্য একটাই তাদের সৃজনশীল প্রতিভাকে আবিষ্কার করা। এই প্রতিষ্ঠান গত দশ বছরের ওপরে ১০হাজারেরও বেশি বালক বালিকাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই ছেলে মেয়েরা বড় হতে হতে ব্যান্ড ছেড়ে দিলেও এদের অনেকের কাছেই বস্তি জীবনের শ্বাস রোধ করা বাস্তবতা মাঝে শিশু-কিশোর বয়সের এই অভিজ্ঞতা যেন ঘানি টানা জীবন সংগ্রামে শীতল পরশ বুলিয়ে দেয়।

XS
SM
MD
LG