অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারদ কেলেঙ্কারির জেরে গ্রেফতার ফিরহাদ, সুব্রত, মদন এবং শোভন


নারদ কেলেঙ্কারির জেরে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখার্জি এবং বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। সকালে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে সিবিআই এই চারজনের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁদের তুলে নিয়ে কলকাতায় নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তৃণমূলের সমর্থকেরা নিজাম প্যালেসে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাত থেকে ওঁদের ছিনিয়ে আনার জন্য গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকতে চায়। যথেচ্ছ ঢিল পাটকেল কাচের বোতল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। জেলায় জেলায় আগুন জ্বলে ওঠে।

বেলা ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা নিজাম প্যালেসে গিয়ে হাজির হন। ১৫ তলায় তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি বসে থাকেন, দাবি করেন, তাঁকেও যেন গ্রেপ্তার করা হয়। মমতা টানা ৬ ঘন্টা ওখানে বসে থাকার পর বেরিয়ে যান। ইতিমধ্যে সিবিআই ওই চারজনকে ভার্চুয়াল শুনানির জন্য আদালতে ভিডিওর মাধ্যমে হাজির করে এবং ১৪ দিনের জেল হেফাজত চায়। কিন্তু বিচারক বলেন, চার্জশিট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর জেল হেফাজতের দরকার কী? সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ বিচারক চারজনেরই জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এই ব্যাপারে সর্বত্র নিন্দার ঢেউ বয়ে গিয়েছে। এমন কি সিপিএম, যারা এতদিন বিজেপি ও তৃণমূলের আঁতাতের কথা বলে আসছিল, তারাও এই সময়ে এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করে। সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, এই করোনা আবহে যখন সবাই মানুষের জীবন নিয়ে চিন্তিত, তখন পুরো ব্যাপারটার অভিমুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য এই গ্রেপ্তার সমর্থনযোগ্য নয়। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীও এই সময়ে এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করেছেন। রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার অবশ্য পুরো ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করে একের পর এক টুইট বার্তা ছাড়তে থাকেন। তৃণমূল সমর্থকেরা এর পর রাজভবনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সারাদিন কলকাতায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়ে ছিল। ওঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আস্তে আস্তে তৃণমূল সমর্থকেরা যে যাঁর জায়গায় ফিরে যান। তবে এই নিয়ে আরও জলঘোলা হবে বোঝাই যাচ্ছে। কারণ, এখনও সিবিআই একই দোষে দোষী মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেনি। যদিও তাঁরাও নারদ অভিযানে গুপ্ত ক্যামেরার ঘুষ নিয়েছেন দেখা গিয়েছে‌। অভিযোগ, ওঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রক্ষাকবচ পেয়ে গিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG