অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চীনকে মোকাবেলা করতে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে ব্রিটেন এবং  গোটা ইউরোপ  

ভারতের মুম্বাইতে মেক ইন ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য শ্রমিকরা কাঠের স্তূপ বহন করছে। (ফাইল ছবি) ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬।
ভারতের মুম্বাইতে মেক ইন ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য শ্রমিকরা কাঠের স্তূপ বহন করছে। (ফাইল ছবি) ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬।

কোভিড-১৯ মহামারী থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গতিশীলতা এনেছে চীন, কিন্তু ২০২১ সালে প্রধান অর্থনীতির তারকা পারফর্মার ছিল ভারত, যে দেশটি তার অর্থনীতিকে দ্রুত সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, ভারত এই বছরও বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হবে। এছাড়া, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতার সূচনা, হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তারা।

বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক নোমুরা পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, সেখানে ভারতের প্রবৃদ্ধি গিয়ে দাঁড়াবে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে। অর্থনীতির এই সূচকের ফলে ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় সরকারগুলি ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে এবং নতুন দিল্লির সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য লবিং প্রচেষ্টাকে জোরদার করছে, বলতে গেলে দ্বিগুণ করছে।

বর্তমানে ভারতের জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উত্পাদন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ কোটি ডলার, এবং পূর্বাভাস বলছে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে পারে।

ভারতের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করার জন্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন হাজার হাজার ভারতীয় লোকের ব্রিটেনে বসবাস ও কাজ করার পথ সহজ করতে, অভিবাসন নিয়ম শিথিল করতে প্রস্তুত। এই মাসের শেষের দিকে, ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব, অ্যান-মারি ট্রেভেলিয়ান, নতুন দিল্লিতে একটি মিশনের নেতৃত্ব দেবেন এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অভিবাসন বিধি শিথিল করার পাশাপাশি, কাজের এবং ছাত্র ভিসার জন্য ফি কমানোর সম্ভাবনার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করবেন, যেগুলো ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

ভারতের সাথে একটি উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য এর আগে প্রায় এক দশক ধরে চালিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ২০১১ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং তার ছয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যবসার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারতে গিয়েছিলেন। সেই সময় ডাউনিং স্ট্রিট এটিকে "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মিশন" বলে বর্ণনা করেছিল।

কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পরে, ভারত সরকারের কোনো উচ্চ পদস্থ সদস্যের লন্ডনে কোনো ফিরতি সফর হয়নি। উপরন্তু আগ্রহীদের দীর্ঘ সারিতে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বাণিজ্য চুক্তির উদ্দেশ্যে এবং নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে নতুন দিল্লি সফরে এসেছেন।

This item is part of
XS
SM
MD
LG