অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দূষণ রুখতে লকডাউনের জন্য তৈরি দিল্লী


ভারতের নয়া দিল্লিতে ধোঁয়ায় ঢাকা রাজপথের একটি দৃশ্য। (১২ নভেম্বর, ২০২১)

সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লী। দূষণ রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দিল্লীর কেজরিওয়াল সরকার শীর্ষ আদালতে জানাল, দূষণ কমাতে পুরোপুরি লকডাউন করা যেতে পারে।

বিচারপতিরা বলেন, দিল্লীর দূষণ রীতিমত বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, রাজধানীর আশপাশে শস্যক্ষেত্রে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর জন্য বিপুল পরিমাণে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। সেই ধোঁয়া দিল্লীর দূষণের জন্য ১০ শতাংশ দায়ী। দিল্লী সরকার জানায়, চলতি সপ্তাহে শহরের কোনও স্কুলে ক্লাস হবে না। সরকারি কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। যে কোনও নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকবে তিনদিন।

গত শনিবারও দিল্লীর দূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বলেন, "পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দিল্লির ধোঁয়াশা দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা উচিত।"

গত দিওয়ালির পর জানা যায়, দূষণের বিপজ্জনক স্তরও পার করে ফেলেছে দিল্লী। সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লীর সরকারের নির্দেশ তথা কড়া নজরদারি উপেক্ষা করেই বাজি পুড়েছে রাজধানীর অলিতে গলিতে। তারই ফল, মারাত্মক ঘন ধোঁয়াশা যা আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ফেলেছে দিল্লীকে। বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেশি। প্রতি শ্বাসেই বিষ-বাষ্প ঢুকছে শরীরে। প্রতিদিনই বাতাসের গুণগত মান খারাপের দিকে যাচ্ছে। দূষণের পাল্লায় পিছিয়ে নেই কলকাতাও। কালীপুজোর রাত থেকেই দূষণের মাত্রা বেড়েছে এ শহরেও।

দিল্লীর পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই বলছেন, অনেকেই করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আদালতের নির্দেশ মেনে বাজি পোড়াননি। তবে উদ্দেশ্যপ্রোণোদিত ভাবে শব্দবাজি ও আলোর বাজি পোড়ানো হয়েছে বহু জায়গায়। দীপাবলির রাত থেকেই দিল্লীর বাতাস বিষাক্ত।

দূষণের মাত্রায় দেশের সব রাজ্য ও বড় শহরগুলির মধ্যে দিল্লীই শীর্ষে ছিল। দীপাবলির পর থেকে দিল্লীর বাতাসের মান তথা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, দীপাবলির দিনেই দিল্লীর কোনও কোনও জায়গায় বাতাসের মান সূচক উঠে গিয়েছিল ৬১৭-তে। কোথাও আবার ৯৯৯ ছাড়িয়েছিল। অথচ গতবছর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৪৩৩, তার আগের বছর ২০১৯ সালে ৩৯০।

XS
SM
MD
LG