অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হংকং এর জন্য চীনের প্রস্তাবিত আইনের বিরোধীতা এখন সর্বত্র হচ্ছে

হংকং এ চীনের কথায় অন্তর্ঘাতমুলক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম প্রতিরোধ করা এবং এর বিরুদ্ধে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে, চীন যে হংকং এর উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপ করার চেষ্টা করছে তা সমালোচক এবং সাধারণ হংকং বাসীর তীব্র তিরস্কারের বিষয় হয়ে উঠছে। শুক্রবার চীনের বার্ষিক সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াং চেন বলেছেন এই প্রস্তাবের খসড়াটি সংসদে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অনেকেই আফসোস করছেন যে এটিই বিশ্বে জানা অবাধ ও মুক্ত একটি শহরের অবসান ঘটাবে। চীনের ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনবাধে চীনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হংকং এ তাদের দপ্তর স্থাপন করবে। চীন দীর্ঘ দিন ধরেই এ রকম আভাস দিয়ে আসছিল যে তারা হংকংকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসবে। ২০১৪ সালের নীতি বিষয়ক এক শ্বেতপত্রে বলা হয় যে হংকং এর উপর চীনের শাসন করার সামগ্রিক ক্ষমতা রয়েছে এবং হংকং চীনের আওতাভুক্ত।

গত বছর যখন বিচারের জন্য হংকংবাসীকে চীনের মূল ভূখন্ডে হস্তান্তরের একটি বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ লোক সহিংস প্রতিবাদ জানায় তখন চীনের নেতৃত্ব চমকে যায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনা কর্মকর্তারা তাদের কথায় জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ফাঁক ফোকর পূর্ণ করার জন্য শহরটিকে অন্তর্ঘাতমূলক, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং বিদেশী হস্তক্ষেপমুলক কাজ থেকে মুক্ত রাখার জন্য আইন প্রণয়নের কথা বলে। নভ্ম্বের মাসে কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেইজিং হংকংকে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য তার আইন ব্যবস্থাকে ত্রুটি মুক্ত করার কথা বলে।

সমালোচকরা বলছেন হংকং’এর সংসদকে পাশ কাটিয়ে শহরটিকে তার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নেয়ার বেইজিং সরকারের এই প্রচেষ্টা এক দেশ দুই ব্যবস্থার সম্পর্কিত তার নিজের প্রতিশ্রুতির বিরোধী। ১৯৮৪ সালে চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের যৌথ বিবৃতিতে হংকংকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্বায়ত্বশাসনের নিশ্চয়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG