অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সোমবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী দু’ই বোমার বিস্ফোরণে সাংবাদিক সহ ২৬ জনের মৃত্যু


আজ সোমবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতি দু’ই বোমার বিস্ফোরণে কম হ’লেও মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের যার মধ্যে সাংবাদিক ছিলেন ৯ জন। এছাড়া ঐ দু’ই বিস্ফোরণে পাঁচ সাংবাদিক সহ জখম হয়েছেন অপর কমসে কম পঞ্চাশ ব্যক্তি।

ইসলামিক স্টেইট তাদের আমাক বার্তা সংস্থার মাধ্যমে , আফগানিস্তানে সংবাদ মাধ্যম কর্মিদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতি এই যে হামলা চালানো হ’লো এর দায় দায়িত্ব তাদেরই ব’লে দাবি করেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের নজরদারি সংস্থা Afghan Journalist Safety Committee বা (AJSC), সংবাদ মাধ্যমের সংশ্লিষ্টদের হতাহতের যাথার্থ নিশ্চিত ক’রে এ হামলা তৎপরতার প্রতি ধিক্কার জানিয়েছে অত্যন্ত কঠোর ভাষায়।

RFE/RL বা Radio Free Europe এবং Radio Liberty –র মাহাররাম দুররানীসহ দুই নারী সাংবাদিকও রয়েছেন নিহতদের মধ্যে। ফরাসী বার্তা সংস্থা AFP নিশ্চিত ক’রে জানিয়েছে- কাবুলে নিযুক্ত তাদের চীফ ফটোগ্রাফার শা’ মারাই এ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। Radio Free Europe­- RFE­­-র দু’ই পুরুষ স্ট্যাফার আবাদুল্লাহ হানানযাই এবং আবাঊন কাকার-ও নিহতদের মধ্যে ছিলেন।

শীর্ষ স্থানীয় এক আফগান টেলিভিসন স্টেশান 1 TV News-ও নিশ্চিত ক’রে জানিয়েছে- আজ সোমবারের বিস্ফোরণ হামলায় তাদের দু’ই স্ট্যাফ সদস্য নিহত হয়েছেন।

আফগান কতৃপক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন – ঐ হামলার সূত্রপাত হয় এক্কেবারে সক্কাল বেলার ব্যস্তসমস্ত সময়টাতে- লোকজন যখন কিনা কাজে কর্মে যাবার জন্যে বের হচ্ছিলেন, সেসময়টাতে মোটোর সাইকেল আরোহি এক আত্মঘাতি বোমাবাজ দেশটির গোয়েন্দা কার্যালয় National Security Directorate দপ্তরের কাছাকাছি পৌঁছিয়ে নিজ দেহে বিস্ফোরণ ঘটায়।

মিনিট কয়েকের ভেতরেই উদ্ধার কর্মিরা- সংবাদ সংগ্রাহকেরা যখন কিনা ত্রস্তব্যস্ত হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন , ঠিক সে সময়টাতে, সাংবাদিকের ছদ্মবেশধারী দ্বিতীয় আরেক বোমাবাজ নিজ দেহে বাঁধা বিস্ফোরক ফাটিয়ে হতাহতের সংখ্যাটাকে একেবারে তুঙ্গে নিয়ে তোলে- বললেন, কাবুল পুলিশের মূখপাত্র হাশমাত ইসতানিকযাই।

আমরা কঠোরতম ভাষায় কাবুলে, ঐ দু’ই আত্মঘাতি বোমাবাজের কাপুরূষোচিত এ হামলার প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি- যে হামলায় হতাহত হয়েছে নিরিহ আফগান নাগরিক- ও সেইসঙ্গে সাবংবাদিকবৃন্দ।– বললেন, দেশটিতে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী ও নেটো যোদ্ধৃ মিশনের সেনাধিনায়ক জেনারেল জন নিকোলসান।

কাবুলের ঐ হামলার ঘন্টা কয়েকের ভেতরেই অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীদের গুলির আঘাতে সীমান্ত শহর খোস্তে প্রাণ হারালেন বি-বি-সি’র স্থানীয় সংবাদদাতা আহমেদ শা’ ।

আফগান তালেবানরা একখানা বয়ান জারী করে কাবুল বিস্ফোরণ এবং খোস্ত হামলার দায়দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায় না ব’লে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে।

আফগানিস্তান জুড়ে এই যে নিরাপত্তা সূরক্ষা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে – সাংবাদিকদের কাজকর্মের ক্ষেত্রে হুমকি দেখা দিচ্ছে তা বিশেষভাবে প্রনিধাণযোগ্য- এক দু’ হাজার সতেরোতেই নিহত হয়েছেন পনেরোজন- এঁদের অনেকেই প্রাণ হারান বিশেষভাবে সংবাদ মাধ্যমকে নিশানা ক’রে চালানো হামলা তৎপরতায়।

Reporters Without Borders গত সপ্তাহে জারি করা বাৎসরিক রিপোর্টে বলছে, এভাবে, কোনো কোনো অঞ্চলে ত্রাসের বীজ বপন ক’রে তালেবানরা- ইসলামিক স্টেইট জঙ্গিরা একটা কৃষ্নবিবর সৃষ্টি করছে।

বলা হয়- আফগানিস্তানের কোনো কোনো প্রদেশে তালেবানরা যথেচ্ছভাবে, জোর জবরদস্তি ক’রে – সংবাদ মাধ্যমকে শুল্ক পরিশোধে বাধ্য করে- যেটা কিনা মুক্তিপন রুপে বিবেচ্য হতে পারে।

ওদিকে , কান্দাহারে, আফগান কর্মকর্তারা বলছেন- আত্মঘাতি গাড়ি বোমার আঘাতে,দক্ষিনী প্রদেশ কান্দাহারে, কমসে কম এগারো ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে- জখম হয়েছে অপর ষোলো ব্যক্তি,যার মধ্যে রোমানিয়ান সৈন্য ছিলো পাঁচ জন। পুলিশের আঞ্চলিক মূখপাত্র ভয়েস অফ এ্যামেরিকাকে জানান-হামলায় বিশেষভাবে,বিদেশি সৈন্যবাহি যানবহরকে নিশানা বানানো হয়। বলা হয় নিহতদের সক্কলেই ছিলো কাছাকাছির একটি মাদ্রাসার ছাত্র।

NATO's Resolute Support mission থেকে জানানো হয়- গাড়িভরা বিস্ফোরণের আঘাতে আট সৈনিক জখম হয় – তবে তাদের অবস্থা এখন মোটামুটি আশাব্যঞ্জকই বলা যেতে পারে।হতাহতদের মধ্যে আফগান পুলিশ ছিলো, অসামরিক লোকজন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক ছিলো।

জেনারেল নিকোলসান বলেন- এই যাঁরা জখম হয়েছেন -নিরপরাধ যাঁরা প্রাণ হারালেন, আফগানিস্তানের দুশমনদের হাতে, আমরা তাঁদের সকলের জন্যে প্রার্থনা করছি।

কান্দাহার বিস্ফোরণের দায়দায়িত্ব তাৎক্ষনিকভাবে দাবি করেনি কেউ- আর ওখানটাতেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড়ো একটা ঘাঁটি। তালেবান দূর্বৃত্তরা প্রায় প্রায়ই ওখানটায় স্থানীয়দের ওপর- আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষগুলোর ওপর হামলা তৎপরতা চালিয়ে থাকে।

XS
SM
MD
LG