অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মারা গেলেন ভারত বিরোধী কাশ্মীরি নেতা গিলানি


ফাইল ফটো : সৈয়দ আলী শাহ গিলানি (এএফপি)

বিতর্কিত কাশ্মিরে ভারত শাসনের বিরোধী শীর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদি নেতা সৈযদ আলী গিলানি বুধবার রাতে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ঐ অঞ্চলে নতুন দিল্লি সরকারের বিরোধীতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

তাঁর একজন সাহায্যকারী এবং আত্মীয় দ্য এসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, শ্রীনগরে তাঁর নিজ বাড়িতেই, পরিবারের সদস্য-পরিবেষ্টিত পরিবেশে তিনি মারা যান।

এই খবর প্রচার হওয়ার অল্প পরেই, বহু কাশ্মিরি গিলানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের জন্য শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকায় তাঁর বাড়িতে সমবেত হন। গিলানি তাঁর জীবনের শেষ দশকটিতে প্রায় গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন এবং নানান রকম অসুখে ভুগছিলেন।

এ দিকে ভারত বিরোধী বিক্ষোভ থামাতে কর্তৃপক্ষ প্রচলিত ব্যবস্থা হিসেবে যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে এবং লোকজনের চলাচলের উপর ও বিধিনিষেধ আরোপ করে। গিলানির জানাজায় অংশ নিতে জনগণকে প্রতিহত করতে, কাশ্মির উপত্যকা জুড়ে সশস্ত্র পুলিশ এবং সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় রাইফেলধারী সৈন্যরা গিলানির বাড়ির দিকে যাবার পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং সাঁজোয়া গাড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঐ অঞ্চলের বিভিন্ন শহর এবং গ্রামের মসজিদ থেকে গিলানির মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয় এবং জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে বলা হয়।

গিলানি একজন আদর্শবাদী লোক ছিলেন এবং তিনি পাকিস্তানে কাশ্মিরের অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করতেন। বহু বছর ধরে তিনি ভারতের সঙ্গে যে কোন রকম আলোচনা নাকচ করে এসেছেন এবং বলেছেন, “কাশ্মিরকে বিতর্কিত অঞ্চল ঘোষণা , ঐ অঞ্চলকে সৈন্যমুক্ত করা এবং অর্থপূর্ণ সংলাপের জন্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ভারতকে বিশ্বাস করা যায় না”।

ভারতের সব সরকারই এই অবস্থান সরাসরি নাকচ করে দেয় এবং তাঁকে প্রায়শই একজন কট্টনপন্থি রাজনীতিক হিসেবে মনে করা হতো।

গিলানিকে ঐ অঞ্চলের ভারতপন্থি রাজনীতিকরাও শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। ঐ অঞ্চলের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী টুইটারে লেখেন,“আমরা হয়ত অধিকাংশ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করিনা তবে তাঁর অবিচলিত অবস্থানের প্রতি আমার শ্রদ্থা রয়েছে”।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন গিলানির মৃত্যুতে তিনি “গভীর ভাবে শোকাহত” এবং বলেন এই নেতা,“তাঁর জনগণের জন্য এবং তাদের নিজের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন”।

ইমরান খানের আমলেই ২০২০ সালে গিলানিকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ অসামরিক খেতাব , ‘ নিশানে পাকিস্তান' দেয়া হয়।

খান বলেন তাঁর দেশ বৃহষ্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শোক দিবস পালন করবে এবং পাকিস্তানের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

XS
SM
MD
LG