অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারে করোনা পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে


মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণ ডাগন শিল্প অঞ্চলে নাইং অক্সিজেন কারখানার বাইরে সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরার জন্য অপেক্ষমান লোকদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কাঁঁধে অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বহন করা এক ব্যক্তি। ২৮ জুলাই, ২০২১।

সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের ছয় মাস পর মিয়ানমারে এখন ব্যাপকভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মে মাসের ২৫ তারিখে শুরু হওয়া তৃতীয় ঢেউয়ে, ডেল্টা প্রকরণের সংক্রমণে দ্রুত গতিতে প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।জুলাই এর ২৩ তারিখে ৩২৬ জনের মৃত্যু হয়।এ পর্যন্ত করোনভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬৪৫৯।

মিয়ানমারে ১৩,৪৮৭টি নমুনার মধ্যে ৫৫০৬টি নতুন সংক্রমণ লক্ষ্য করা হয় যা কিনা ৪০ শতাংশ। প্রকৃত সংখ্যা বেশি হতে পারে যেহেতু অনেকেই হাসপাতালে যেতে পারছেন না।

কবরস্থানগুলি সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই দ্রুত মরদেহগুলি সমাধিস্থ করতে হিমসিম খাচ্ছে। পর্যাপ্ত লাশ বহনের গাড়ি না থাকার কারণে ট্যাক্সি বা গাড়িতে করে তিন বা তার চাইতেও বেশি লাশ বহন করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ইয়াঙ্গুনের কবরস্থানে সৎকারের জন্য মৃতদেহগুলো স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকে স্বেচ্ছাসেবী এবং কর্মীরা মাস্ক ছাড়া অন্য কোনও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরেন না। ইয়াঙ্গুনের ফ্রি ফিউনারেল অপারেটর এবং ত্রাণ কর্মীদের দাবি অনুযায়ী দিনে প্রায় এক হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এতগুলো মৃতদেহ সৎকার করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সান উইন থান, যার দাতব্য পরিষেবা মরদেহ পরিবহন করে, ভিওএকে বলেছে যে তার সংস্থাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০টি মরদেহ কবরস্থানে পরিবহন করতে হয়। তবে তারা অনেক অনুরোধই রাখতে পারছেন না।

সান উইন থান বলেন, "আমরা দিনে ৫০টি মৃতদেহ নিতে পারি না। মৃতদেহগুলি কবরস্থানে রেখে আসার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। তবে চাহিদা বেশি থাকায় আমরা এর চাইতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারি না। কবরস্থানে মৃতদেহ পৌঁছে দিয়েই চলে যেতে হয় আরও মৃতদেহ নিয়ে আসার জন্য।”

শুধু ইয়াঙ্গুনের পরিস্থিত এমন নয়। ম্যানডাল্যেতে ডাক্তার ও নার্সের অভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। একজন ত্রাণ কর্মী ভিওএকে বলেছেন "প্রতিদিন প্রায় ৬০জন রোগী মারা যায় কিন্তু আমরা কেবল ৩০টি মৃতদেহ কবরস্থানে নিতে পারি।"

XS
SM
MD
LG