অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ


রোহিঙ্গা নির্যাতনকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ কি হতে পারে তা নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার Michael Bowman এর প্রতিবেদন শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার ও তাওহীদুল ইসলাম।

রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রতিদিন যে ভয়াবহ দু:খ-কষ্ট ও অত্যাচার ভোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলেও তার প্রভাব পড়েছে। FOREIGN RELATIONS COMMITTEE বা বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান সেনেটর CORY GARDNER বলেন, "মানব বিপর্যয়ের চেয়ে এটা কম কিছু নয়।"

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ডেমোক্রেট সেনেটর BEN CARDIN বলেন, "বার্মার রোহিঙ্গা জনসংখ্যার অর্ধেক দেশ ছেড়েছে। অর্থাৎ ১২ লাখের মধ্যে ৬ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছে।"

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ডেমোক্রেট সেনেটর JEFF MERKLEY বলেন, "হাজার হাজার নারী ধর্ষিত হয়েছেন, হাজার হাজার পুরুষ ও নারী গ্রাম থেকে পালিয়ে যাবার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গ্রামগুলোকে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং মানুষজন ক্ষুদার্ধ।"

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী এবং বেসামরিক ব্যক্তিরা যেভাবে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত করেছে, সে বিষয়ে কিছু আইন প্রণেতা কড়া মন্তব্য করেছেন। বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ডেমোক্রেট সেনেটর BEN CARDIN বলেন, "এটা জাতিগত নিধন, যা বেশ স্পষ্ট। হ্যাঁ আমি মনে করি- এটা গনহত্যা।"

সেনেটর CARDIN সহ অন্যান্য আইন প্রনেতারা চান, জাতিগত নিধনের ঘটনা যে ঘটেছে, তা ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষনা করুক। আর এটা হবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে এ ধরনের ঘোষণার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত NIKKI HALEY বলেন, "আমরা বার্মার কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতা এবং দেশটি থেকে জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনে টেকসই প্রচারাভিযানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলতে ভয় পেতে পারি না।"

ক্যাপিটল হিলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ঐ নির্মমতার বিষয়ে কথা বলেন এবং রেঙ্গুন যাতে তাদের আচারন পরিবর্তন করে, সে দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী PATRICK MURPHY বলেন, "সহিংসতা বন্ধ করুন, বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষা করুন, মানবিক কার্যক্রম ও গনমাধ্যমের প্রবেশাধিকার প্রসারিত করুন, দোষীদের জবাদিহিতার আওতায় আনুন, দেশ ছেড়ে পালিয়া যাওয়াদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনুন।"

মিয়ানমারে যখন গণতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে অং সান সুচি ক্ষমতা আসে, তখন ওবামা প্রশাসনের সময় দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথীল করা হয়। তবে এখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনায় থাকা উচিত বলে মনে করেন আইন প্রণেতারা। বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান সেনেটর BOB CORKER বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বার্মাকে বর্জন করা উচিত নয়, তবে নীতি সমন্বয়ের জন্য এটা উপযুক্ত সময় হতে পারে।"

যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সমগ্র দেশের তুলনায় ব্যক্তিগত মানবাধিকারের বিষয়েই দৃষ্টি দিতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী PATRICK MURPHY বলেন, "অসহায় জনগোষ্ঠী জন্য সীমান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলি খুব ভাল হতে পারে, কারন এখনও একই রকম সহিংসতা এবং অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপের কারনে তারা অধিকতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।"

মিয়ানমারের মানবিক সংকট নিয়ে যখন কথা হচ্ছিলো, তখন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সেনেটর JEANNE SHAHEEN হোয়াইট হাউসের ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যখন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তখন বার্মার সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের কাছে কোন ধরনের বার্তা যাচ্ছে?”

এদিকে সবশেষ খবর হচ্ছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসান রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী কমান্ডার-ইন-চীফ সিনিয়র জেনারেল Min Aung Hlaing সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাখাইন রাজ্যের অব্যাহত মানবিক সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

XS
SM
MD
LG