অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের বৈঠক

পাকিস্তানী ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস আজ বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের বৈঠক দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো গভীর করার একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইসলামাবাদ থেকে এ নিয়ে আয়াজ গুলের রিপোর্ট থেকে শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:04:06 0:00
সরাসরি লিংক

প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের মধ্যেকার বৈঠক এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে শক্ত সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে।

২০১৩ সালে দুই নেতা হোয়াইট হাউজে শেষবার মিলিত হয়ছিলেন। পাকিস্তানী কর্মকর্তারা বলছেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন টেকসই অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়তে চান; যা শুধুমাত্র সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান বা নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ঐতিহাসিকভাবে যা হয়ে এসেছে।

রাষ্ট্র পরিচালিত ইসলামাবাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনষ্টিটিউট অব ষ্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজের প্রধান মাসুদ খান বললেন;

“আমার মনে হয় মোটামুটিভাবে গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক পথে এগিয়েছে এবং ক্রমেই অগ্রগতি হচ্ছে এবং দুই দেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যেকার বোঝাপড়াও গভীর হয়েছে”।

দুই নেতার আলোচনায় পাকিস্তানের জঙ্গীবাদ বিরোধী অভিযান ও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের প্রয়াসের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা তারিক ফাতেমী ওয়াশিংটন আসার আগে স্থাণীয় এক মিডিয়ায় বলেন আফগান সরকার ও তালিবানের সঙ্গে আরেক দফা শান্তি আলোচনার জন্যে প্রস্তুত রয়েছে পাকিস্তান।

“যদি আফগান সরকার বিশ্বাস করে এই শান্তি আলোচনা তাদের পক্ষে যাচ্ছে না তবে তারা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসাবে যে কোনো বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে”।

তিনি বলেন নিকটতম বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী হিসাবে আফগানিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান যে কোনোভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং কাবুলে অন্যান্য কর্মকর্তারা পাকিস্তানের উদ্দশ্য নিয়ে খানিকটা সন্দিহান। তারা অনেকেই মনে করেন পাকিস্তান তালিবানকে সাহায্য করে।

বিশ্লষেক খান বলেন ওবামা-শরীফ বৈঠকে আফগান শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

“আমি মনে করি একটি সম্ভাবনা রয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করে আফগান সরকারকে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজী করাতে পারে। আমরা এ ব্যপারে আশাবাদী হয়ে থাকতে চাই। আফগান সরকারেরর অবস্থান যদিও খুব একটা এর পক্ষে নয় তবুও সুযোগ রয়েছ আলোচনার টেবিলে বসানোর”।

পাকিস্তানী পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডার; যাকে মনে করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডার; ওবামা- শরীফ বৈঠকে ঐ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

পারমানবিক উপাদান বিষয়ক বানিজ্য ও আমদানী রপ্তানী নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত ৪৮ জাতির সংস্থা Nuclear Suppliers Group (NSG) এর সদস্যপদ দেয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের পারমানবিক কর্মসূচী বন্ধ করা বিষয়ক চুক্তিও দুই নেতার আলোচনায় আসতে পারে বলে পাকস্তানী কর্মকর্তারা জানান।

পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিভাগের পরিকল্পনা বিভাগের সুপারভাইজার জাহির হাদির কাজমী দুই নেতার আলোচনায় পারমানবিক অস্ত্র বা গবেষণা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং পাকিস্তান এই পারমানবিক গবেষণা বা উন্নয়ন বিষয়ক কোনো সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করবে না।

পাকিস্তানের ক্ষুদ্র মেয়াদী পারমানবিক সামর্থের ক্ষেপনাস্ত্র ‘নসর’ তৈরীর বরাত দিয়ে বলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের চিরাচরিত যুদ্ধ যুদ্ধ মনোভাব’কে নিরুৎসাহিত করাই তাদের লক্ষ্য।

“পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধংদেহী মেনোভাব একটি বড়ো বিষয়। এজন্যই পাকিস্তান 'নসর' তৈরির মাধ্যমে ভারতকে বোঝাতে চায় যে তাদেরও সমর্থ রয়েছে”।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে এই ধরনের অস্ত্র তৈরী এবং তা স্থাপন করাটা ভারত পাকিস্তানের মধ্যে পারমানবিক সংঘাত ও উত্তজনা বৃদ্ধি করতে পারে। ইতিমধ্যেই এই দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে বৈরীতা রয়েছে।

পাকিস্তানী কর্মকর্তারা বলেন নাওয়াজ শরীফের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র পাকস্তানী পন্যের রপ্তানী বৃদ্ধি ও দু দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা। উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রই পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ বানিজ্য অংশীদার; গত বছর যার পরিমান ছিল ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশী।

হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের বৈঠক হয়।

This item is part of
XS
SM
MD
LG