অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

'আশা করি ক্রাইমিয়া থেকে রুশ সৈন্য সরিয়ে নেবেন পুতিন: ওবামা'


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইউক্রেনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন; ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতীক হিসাবে। একই সঙ্গে রাশিয়াকে তার আচরণ পরিবর্তন না করলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারেও হুশিয়ার করে দেয়া হল। ভয়েস অব আমেরিকার হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা লুইস রামিরেজের রিপোর্ট থেকে সেলিম হোসেনের পরিবেশনা।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:44 0:00
সরাসরি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন প্রেসিডেন্ট কতৃক ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী আর্সেনী ইয়াৎসেনিউক’কে দেয়া আমন্ত্রণ রাশিয়ার প্রতি পরিষ্কার বার্তা যে ইউক্রেনের নতুন সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও অনুমোদন রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও মিষ্টার ইয়াৎসেনিউকের সাক্ষাৎ হয়। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন তিনি আশা করেন রাশিয়া, যাদের সেনা সদস্যরা ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া অঞ্চলের বেশীরভাগ স্থানে অবস্থান করছে, তারা তা সরিয়ে নেবেন।

তিনি বলেন, "এখনো অন্যপথ খোলা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন সে পথ অবলম্বন করবেন। যদি তিনি তা না করেন, আমি নিশ্চিত যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইউক্রেনের ঐক্য ও আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায়, ইউক্রেন সরকারের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে”।

গণতন্ত্র রক্ষায় ইউক্রেনের জনগনের সাহসের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের এই নেতা বলেন, এটি প্রশংসনীয় যে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মষ্কো সমর্থিত পুরাতন নেতৃত্বের পতন ঘটিয়ে তারা নতুন সরকার গঠন করে যারা ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

ইউক্রেনিয়ান নেতা বলেন তার সরকার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, “আমরা এটি পরিষ্কার করতে চাই যে, ইউক্রেন পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রয়েছে এবং থাকবেএবং আমাদের রুশ বন্ধুদের বুঝতে হবে যে, আমরা নতুন করে সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত যেখানে ইউক্রেন, ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের অংশ। তবে ইউক্রেন রাশিয়ার ভালো বন্ধু ও অংশীদার”।

মিষ্টার ওবামা বলেন, ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের জন্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বন্ধুরা হয়ত রাশিয়াকে তার দায় পোষাতে বাধ্য করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে রাশিয়ার রাশিয়ান নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে।

ক্রাইমিয়াকে রাশিযার অংশ করা নিয়ে রোববার রাশিয়া সমর্থিত গনভোট অনুষ্ঠিতহওয়ার কথা। এতে সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে।

বুধবার ওভাল অফিসের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই গনভোট মানে না। তিনি আশা করেন রাশিযা তা বন্ধ করবে।

তিনি বলছিলেন, “আমরা কোনো প্রকার গনভোট অবশ্যই অনুমোদন করবো না। আমি আশা করি কুটনৈতিক উদ্যোগে আগামী কয়েক দিনে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে”।

কুটনৈতিক উদ্যোগ অব্যহত রয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভ্রভের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে লন্ডন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেরী বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রস্তুত।

তিনি বলেন, "যদি বেঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তবে তা অতি দ্রুত আরোপ করা হবে এবং তা নানাদিকে প্রসারিত হতেপারে, এবং আমরা আশা করি যুক্তিসঙ্গত ফলাফল আসবে”।

কঠোর শব্দ ব্যবহারে রাশিয়ার কর্মকান্ডে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা দেখার বিষয়। ক্রাইমিয়ায় অবস্থান নেয়া রুশ সেনাদের ঘাটিতে ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ন্যাটোয় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত কুর্ট ভলকার, বুধবার ওয়াশিংটনে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এক আলোচনা সভায় বলেন: “আমরা যা চাই তা আমরা সবাই বলছি, কিন্তু পুতিন ক্রাইমিয়া দখলে নিচ্ছেন এটাই সত্য। এবং আমার মনে হয় আমাদের এর মধ্যে পার্থক্য টানতে হবে। আমরা যদি আমাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হোক এমনটি চাই, আমাদেরকে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে”।

ইউক্রেনের নতুন নেতা সংকটের মুখে থাকা তার সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস নিয়ে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন। বাড়তি হিসাবে পেয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য ১০০ কোটি ডলারের ঋনের নিশ্চয়তা যা কংগ্রেশনাল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
XS
SM
MD
LG