অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অনশন চলাকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিষপানের দাবি


বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে রফিকুল ইসলাম শামীমকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় - ফটো- প্রতীক ওমর

কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবীতে ২২ অক্টোবর রাত থেকে পুনরায় আমরণ অনশন করছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীরা বলছেন, রোববার ২৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেয়ার সময় পকেট থেকে বিষের বোতল বের করে প্রকাশ্যে বিষপান করেন রফিকুল ইসলাম শামীম নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। পরে সহপাঠীরা তাকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে দ্রত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে বর্তমানে শামীম চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অনশনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন ও রাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিৎ করে আরো বলেন, চুল কেটে দেয়ার অপমান অনেকেই সহ্য করতে পারছে না। আমাদের সাথে ওই শিক্ষিকা যে আচরণ করেছেন তা মেনে নেয়ার মত নয়। আমাদের অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ছিলাম। তারা বিচার করতে পারেননি। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোন ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আমরা আশা করেছিলাম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বিচার পাবো কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। এতে হতাশ হয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। যে কোন সময় নিজের উপর বড় ধরণের আঘাত হানতে পারে শিক্ষার্থীরা।

ওদিকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার রাকিব হাসনাত বলেন, রফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে বিষপান করা অবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এখন সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান এই এই ডাক্তার।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান (২৫) অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে সহপাঠীরা তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। সেখানে কয়েকদিন টানা চিকিৎসায় ওই শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

XS
SM
MD
LG