অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতীয় কমিটি’র সভায় সিদ্ধান্তঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে বাড়তি নিরাপত্তা


কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে প্রহরায় নিরাপত্তা কর্মীরা - ফাইল ফটো- এএফপি
কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে প্রহরায় নিরাপত্তা কর্মীরা - ফাইল ফটো- এএফপি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভেতরে বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিরাপত্তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্মহার নিয়ন্ত্রণের জন্যও নেয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও নেওয়া হবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর ভাসানচর থেকে নোয়াখালী কিংবা হাতিয়ায় যাতায়াত বন্ধ থাকবে। এ সময় ওই পথে মূল ভূখণ্ডের কোনো নৌযান চলাচল করবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জননিরাপত্তা সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, সশন্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, ডিজিএফআই মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এসব এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোরও ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে এপিবিএন কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হবে। ক্যাম্পের ভেতরে পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ও র‌্যাবের যৌথ টহল বাড়ানো হবে। ক্যাম্পের বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব আছে। তারা সবসময় সতর্ক অবস্থায় আছে ও থাকবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক প্রবেশ, মাদক ব্যবস্থা ও বিক্রয়রোধে মনিটরিং বাড়ানো হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বেশি কিছু ওয়াচ টাওয়ার হয়েছে, আরও হবে। অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজও শুরু হবে। ফায়ার সার্ভিসের সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।"

ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্মহার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গাদের জন্মহার লাগামহীন হওয়ায় তাদের পরিবারের পরিসর বেড়ে যাচ্ছে। জন্মহার নিয়ন্ত্রণ ও নতুন জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্তিকরণের বিষয়টি আলোচনায় আসছে।"

মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে টহল আরও বাড়ানো হবে। নাফ নদীতে আইন-শৃঙ্খলা বহিনীর তদরকি আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে উখিয়া ও টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "সীমান্তে গুলির আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই। কেউ যদি সীমান্তের নিয়ম ভাঙে তখন বিজিবি ব্যবস্থা নেয়। কেউ যদি ফায়ার ওপেন করে, বিজিবিও পাল্টা ফায়ার ওপেন করে। নিরাপরাধ লোককে ফায়ার করা বিজিবির কাজ নয়। বিজিবি যদি দেখে কেউ ফায়ার করছে, তখন তারা পাল্টা ফায়ার করে। এখানে ফায়ার করার জন্য বিজিবি নয়, বিজিবি সীমান্ত রক্ষা করার জন্য। সীমান্ত রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন, বিজিবিকে তা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।"

XS
SM
MD
LG