অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে মানবিক সংকট। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৪ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকই শিশু। এর মধ্যে পরিচয়হীন কয়েক হাজার শিশুকে নিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন ত্রাণ কর্মীরা। এই শিশুরা জানে না তাদের মা-বাবা কোথায় আছে; কিভাবে আছে। ইউনিসেফ এই শিশুদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ তারা নিজেদের পরিচয়টুকু পর্যন্ত দিতে পারছে না। নিবন্ধন কর্মীরাও বারবার ফিরে যাচ্ছেন।

ইউনিসেফ-এর মুখপাত্র ক্রিস্টোফে বোউলিয়েরাক বলেছেন, এই শিশুরা খাদ্য-পানি ও আশ্রয়ের জন্য লড়াই করছে। ওদিকে ত্রাণের গাড়ি দেখলেই ছুটছে এই শিশুরা। কিন্তু হুড়োহুড়ি করে বয়স্কদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। সংগ্রহ করতে পারছে না খাবার। শরণার্থী শিবিরগুলোতে এমনিতেই ঠাঁই নেই। এর মধ্যে এই শিশুরা নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেমন: পাঁচার, যৌন নির্যাতন, শিশু শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার ও বাল্য বিয়ের মতো ভয়াবহ ঝুঁকি।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসেবে শরণার্থীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই হলো নারী ও শিশু। এর মধ্যে শতকরা ১৩ ভাগ নারী হয় অন্তসত্ত্বা কিংবা কোলের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান। ত্রাণ কর্মীরা বলছেন, প্রতিদিনই বিপন্ন নারী ও শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকার সাংবাদিক মহিউদ্দিন অদুল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে রয়েছেন। পরিচয়হীন কয়েকটি শিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য হাম ও পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, ৬ মাস থেকে ১৫ বছরের বয়সের শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। আর ৫ বছরের নিচের শিশুদের পোলিও টিকা দেয়া হবে। ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী

XS
SM
MD
LG